রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

৩ মাসেও হয়নি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৬ বার

জাতীয় সম্মেলনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। কার্যত সভাপতি আর সেক্রেটারি- এই দুই নেতা দিয়েই চলছে সংগঠনের কার্যক্রম। তাদের পেছনে পদের আশায় দিনের পর দিন পার করছেন বহু ছাত্রনেতা। কবে হবে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি তা নিয়ে সংগঠনের তৃণমূলে প্রশ্নের অন্ত নেই। তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, পদের আশায় যদি দিনের পর দিন ঘুরতে থাকি তবে রাজনীতিটা করব কখন? বিএনপির হাইকমান্ডের উচিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের মধ্যেই ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ করা।

বিশেষ করে আগামী ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হোক। তা না হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন ফলপ্রসূ হবে না। এদিকে ছাত্রদলের বিগত কমিটির সাবেক ১২ জন নেতার বহিষ্কারাদেশ এখনো প্রত্যাহার না হওয়ায় এসব নেতা এবং তাদের অনুসারীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে কারাবন্দী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের মুক্তিরও কোনো তৎপরতা নেই। ফলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এলোমেলো তথা দিগভ্রান্তের মতো ঘুরেছেন।

উল্লেখ্য যে ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রদলের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হয়। সেখানে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি ও ইকবাল হোসেন শ্যামল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। নবনির্বাচিত নেতৃদ্বয় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব তারা কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন করবেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। জানা গেছে, সারা দেশে ছাত্রদলের ১১৭টি শাখার মধ্যে ১১০টির কমিটি হালনাগাদ করা হয়েছে বিগত রাজীব-আকরাম কমিটির নেতৃত্বে। সাত ইউনিটের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর অন্যতম।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর ছাত্রদলকে যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানাভাবে কাজ করছি। কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করাসহ কয়েকটি ইউনিটের খসড়া কমিটি প্রস্তুত। কিন্তু প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেটা যথাসময়ে ঘোষণা হয়নি। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে সব কমিটির তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। তিনিই চূড়ান্তভাবে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেবেন। একই সাথে মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন শাখা কমিটি শিগগিরই পুনর্গঠন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জানা যায়, সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ৬০ সদস্যের কেন্দ্রীয় আংশিক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের আহ্বায়ক কমিটির তালিকা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জমা দেয়া হয়। কিন্তু তা ঘোষণা করা হয়নি এখনো। সম্প্রতি রাজধানীর পল্টন ও শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়েছে। এমতাবস্থায় বিএনপির হাইকমান্ডের শঙ্কা- দুই সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো একজন অনুপস্থিত থাকলে কমিটি গঠন প্রক্রিয়াই তখন ঝুলে যাবে। আর দুইজনই অনুপস্থিত থাকলে পুরো ছাত্রদলই তখন নেতৃত্বহীন ও স্থবির হয়ে পড়বে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার পক্ষে তারা। পাশাপাশি ডাকসু নির্বাচনের উপযোগী করে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে ঢাবির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনেরও পরামর্শ তাদের।

অবশ্য বয়সসীমা ২৭-২৮ বছরের মধ্যে রাখা হবে। তবে বিগত কমিটি (রাজীব-আকরাম) ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট হলেও এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার ১৭১ সদস্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরে কমিটি গঠনের ধারাবাহিকতা না থাকায় যেসব ছাত্রনেতা পদবঞ্চিত হয়েছেন তাদের অনেকের দাবি কমপক্ষে ৩০০ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা উচিত। তা না হলে দীর্ঘ দিন ধরে পদবঞ্চিত এসব ছাত্রদলের নেতা যাবেন কোথায়?

প্রত্যাহার হয়নি ১২ জন ছাত্রনেতার বহিষ্কারাদেশ: এদিকে ছাত্রদলের কাউন্সিল ও কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় ছাত্রদলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয় গত ২২ জুন রাতে। কিন্তু দীর্ঘ ছয় মাসেও তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়নি। এ নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ছাত্রদলের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে। বয়সসীমা প্রত্যাহার করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে আন্দোলনে থাকায় তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন ঢাবি ছাত্রদলের সেক্রেটারি বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, সাবেক সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইখতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক ও সাবেক সদস্য আজীম পাটোয়ারী।

অবিলম্বে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এসব ছাত্রনেতা। বহিষ্কৃত নেতা এজমল হোসেন পাইলট বলেন, আমরা দলের ক্রান্তিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশকে মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমাদের বহিষ্কারাদেশ এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাহলে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে রাজনীতি করে আমাদের অর্জনটা কী?

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় নয়া দিগন্তকে বলেন, ছাত্রদলের ১২ জনের বহিষ্কারাদের প্রত্যাহারের বিষয়টি যৌক্তিক। এখন পর্যন্ত ইতিবাচকভাবেই বিএনপির হাইকমান্ড সেটা বিবেচনায় নিয়েই কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com