শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

স্বাগত ২০২০ গণতান্ত্রিক মানসিকতা দরকার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৭৬ বার

আজ নতুন বছরের সূর্য উদিত হলো। একটি আশাবাদ নিয়ে শুরু হলো ইংরেজি নতুন সাল ২০২০। এ দিন একটু চোখ বুলিয়ে নেয়া যেতে পারে বিগত বছরের। সেদিনও আমরা একটি উজ্জ্বল বছরের প্রত্যাশায় যাত্রা করেছিলাম। বাস্তবে আমাদের জীবনে অনেক দুঃখ-বেদনা, না পাওয়া তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। সব নাগরিকের সমান সুবিধা, সমান মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে দীনতা আগের মতোই রয়ে গেছে। জাতীয় জীবনের বড় বড় সমস্যা থেকে গেছে অমীমাংসিত। জাতীয় অনৈক্যের সুযোগে রোহিঙ্গা সঙ্কটের এখনো সুরাহা হয়নি। উন্নয়নের বিশাল ফিরিস্তি সরকার প্রচার করলেও দুর্নীতির ভয়াবহ বিস্তার তা ম্লান করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় ২০২০ সালকে মোড় ঘুরানোর বছর হিসেবে প্রত্যাশা করছেন দেশবাসী। সবার আশা, এ বছরে জাতি হারানো সুযোগ কাজে লাগিয়ে সামনে এগোবে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অবক্ষয়ের খবর ছিল বিগত বছরজুড়ে। কিছু বর্বর ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড নাড়া দিয়েছে পুরো জাতিকে। এবার আশা থাকবে, সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দেশ এগিয়ে যাবে। সব পৈশাচিকতাকে আমরা পেছনে ঠেলে দেবো। আর হত্যা করা হবে না নুসরাত, রিফাত ও আবরার ফাহাদের মতো তরুণদের। চর্চা করব শুভ ও সুন্দরের। রাজনৈতিক জীবনে যে জড়তা বিদ্যমান, সেগুলো আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে। সবার জন্য অবাধ মতপ্রকাশের চর্চার সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সর্বাগ্রে। সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, জনমত প্রকাশের সর্বোচ্চ সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে কি না। আমরা যদি বিগত বছরের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলো পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখতে পাবো, নাগরিকরা স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এ বছরের শুরুতে ঢাকায় দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠান হতে চলেছে। সরকার চাইলে এ নির্বাচনে সবার গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ অবারিত করা সম্ভব। অপরাজনীতির উদর থেকে জন্ম নেয়া নানা ধরনের সঙ্কট বিগত বছর জাতিকে স্বস্তি দেয়নি। এ বছর যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়।
উন্নয়নের জোর আওয়াজ তোলা হয়েছে। কিছু উন্নয়ন দৃশ্যমানও বটে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে বহু উন্নয়নের হিসাব-নিকাশ খাতা-কলমে রয়ে গেছে। একে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে, সরকারকে আরো বহুদূর যেতে হবে। খেলাপি ঋণ ও লুটপাটে গত বছরও ব্যাংক খাত ছিল অস্থির। আর জাতীয় অর্থনীতি ছিল দুর্নীতির চাদরে ঢাকা। সেজন্য প্রথম দরকার আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা। এ ক্ষেত্রে সবার আগে আসবে ব্যাংক খাত। ব্যাংকগুলো ফোকলা হয়ে গেছে। লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতিবাজদের ছেঁটে ফেলতে হবে।
জনমনে শঙ্কা দূর করে আশাবাদ সৃষ্টি করতে হলে রাজনৈতিক সঙ্কটের গণতান্ত্রিক সমাধান জরুরি। সরকার নিজের মতো করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাচ্ছে। সবার মতামত গুরুত্ব না দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কোনোভাবেই টেকসই হতে পারে না। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রেই রাজনীতির প্রভাব দৃশ্যমান। রাজনীতি স্বচ্ছ হলে অর্থনীতি, সমাজ ও উন্নয়ন সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে গণতন্ত্রও প্রাতিষ্ঠানিকতা পায়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া উচিত। সবার আগে সংসদ হতে হবে প্রাণবন্ত। তাই নতুন বছরের অঙ্গীকার হোক গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ ধরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার শপথ। এ ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত পদক্ষেপ নিতে পারলে নতুন বছর হবে জাতির জন্য একটি মাইলফলক, স্বাধীনতা হবে অর্থবহ। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার পূরণে জাতি যখন এগিয়ে যাবে তখনই নববর্ষের প্রকৃত আবেদন সার্থক হবে। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com