শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

‘প্রান্তিক দর্শকের কথা ভেবে সিনেমা হল খুলে দেওয়া উচিত’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৬ বার

জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার ‘গাঙচিল’ ছবির প্রথম পোস্টার। এই ছবি, আগামীতে তার কর্মব্যস্ততাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

আপনার অভিনীত ‘গাঙচিল’ ছবির প্রথম পোস্টার মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি কেমন হয়েছে বলে মনে করছেন?

আমাদের প্রিয় মন্ত্রী মহোদয় ওবায়দুল কাদের সাহেবের উপন্যাস ‘গাঙচিল’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। খুব সুন্দর একটি গল্প। চিত্রনাট্যটি খুব ভালো। বানভাসি মানুষদের জীবনের গল্প ফুটে উঠেছে ছবিতে। আমরা সারাবছরই বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, প্লাবনসহ নানা রকম দুর্দশার চিত্র দেখি। এক সাংবাদিক ও এক এনজিওকর্মীর মাধ্যমে সেরকম একটি এলাকার জীবনযাত্রা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ছবিতে। আমি সংবাদকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। এনজিওকর্মীর চরিত্রে আছেন পূর্ণিমা। নিয়ামুলের এটা তৃতীয় পরিচালনা। সে যথেষ্ট চেষ্টা করেছে দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দেওয়ার। বিশেষ করে এই ছবির ক্যামেরাম্যান রাজু রাজ। সে আসাধারণ কাজ করেছে। আমরা সবাই আমাদের বেস্ট এফোর্ট দিয়ে চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার।

ছবির কিছু কাজ বাকি আছে। কবে নাগাদ শুরু হবে?

আমাদের ইচ্ছা ছিল এই বছর ছবিটি মুক্তি দেওয়ার। তাই এই মাসের মাঝামাঝিতেই আবার কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকায় সেটে একটি কাজ বাকি আছে। সেটা শেষ করে আউটডোরে যাব। আসলে এতদিন ধরে সবাই যেহেতু বসা, তাই প্রস্তুতির একটা ব্যাপার আছে। সবার লুক পরিবর্তন হয়ে গেছে, তাই তৈরি হতে সবার একটু সময় দরকার। পূর্ণিমা বলেছেন শুটিং শুরুর ২০ দিন আগে তাকে জানানোর জন্য।

করোনার কারণে এখনো সিনেমা হল বন্ধ। অনেকেই বলছেন আমাদের সিনেমা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেওয়ার জন্য। আপনি এই বিষয়ে কী মনে করেন?

যে কোনো নতুন আইডিয়াকে আমি স্বাগত জানাই। দেখুন অন্যান্য দেশে ওটিটিতে অনেক ছবি মুক্তি পাচ্ছে। করোনার মধ্যেও তারা ওটিটিতে ছবি মুক্তি দিচ্ছে, তা হলে আমরা কেন পারব না। এটা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা অনেক বেশি অনলাইননির্ভর হয়ে যাচ্ছি। এখন যে কোনো বিষয়ে মানুষ অনলাইনের দ্বারস্থ হচ্ছে। আমরা বাংলা চলচ্চিত্র আধুনিকায়ন ও বিশ্বায়ন চাই। সেক্ষেত্রে আমাদের ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। এক সময় আমাদের সিনেমা হল আরও কমে আসবে। তখন সিনেমা নিয়ে সবার কাছে পৌঁছতে হলে অবশ্যই ওটিটির মাধ্যমেই যেতে হবে। আমি ওটিটিকে শতভাগ সাপোর্ট করি।

বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স বন্ধ হয়ে গেল। এটি অবশ্যই চলচ্চিত্রের জন্য এক দুঃসংবাদ।

এই বিষয়টা খুব দুঃজনক। চলচ্চিত্রকে আধুনিকরূপ দেওয়ার জন্য বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরাট ভূমিকা আছে। বসুন্ধরা সিনেমপ্লেক্স বাংলাদেশের প্রথম সিনেপ্লেক্স। দর্শক সেখানে গিয়ে একেবারে আন্তর্জাতিক পরিবেশে সিনেমা উপভোগ করতে পারতেন। মনে হতো বাংলা সিনেমাও আন্তর্জাতিক ছোঁয়া পেয়েছে। ১৮ বছর তারা আমাদের অসম্ভব ভালো সার্ভিস দিয়েছে। আর মাহাবুব ভাই অন্য কোনো ব্যাবসা করতে পারতেন। এমন অনেক লোক আছেন, যারা আমাদের চলচ্চিত্র থেকে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে চলে গেছেন। বলবো- পালিয়ে গেছেন। অনেকের নাম বলে দিতে পারব। নাম প্রকাশ করে তাদের ছোট করতে চাই না। এক্ষেত্রে মাহবুব ভাই চলচিত্রের প্রতি যথেষ্ট সহমর্মিতা ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন। চলচ্চিত্রের প্রতি এরকম নিবেদিতপ্রাণ মানুষের হলটা যদি এভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তা হবে খুব দুঃখজনক। আমি চাই দুই পক্ষই আলোচনা সাপক্ষে সুন্দর একটা সমাধানে আসুক।

বন্ধ থাকা সিনেমা হল চালু করতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিষয়টি কতটা ফলপ্রসূ?

চলচ্চিত্রের সব কলা-কুশলী, অভিনয় শিল্পী; যারা সিনেমার সঙ্গে জড়িত, তাদের সবার পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এরকম একটি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। বর্তমানে চলচ্চিত্রের জন্য এটা অনেক ভালো সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে হলমালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে আবার ফিরে আসা দরকার। মানুষের কিন্তু বিনোদনের বিকল্প নেই। আমাদের দেশে বিনোদনের ক্ষেত্র অনেক কম। আমাদের দেশে গ্রামগঞ্জের অনেক মানুষের প্রধান বিনোদনের মাধ্যম হলো সিনেমা। তারা কিন্তু শহরের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভ্যস্ত না। তারা সিনেমা হল থেকেই বিনোদনটা চায়। এই মানুষদের কথা ভেবে আমদের হলগুলো খুলে দেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, তাই খুব দ্রুত বন্ধ হল খোলার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত বলে মনে করি।

সামনের দিনগুলোতে আপনার ব্যাস্ততা কী নিয়ে?

সামনের দিনগুলোতে আমার বেশকিছু ছবি আসবে। ‘গাংচিল’, ‘জ্যাম’, ‘যদি আর একটু সময় পেতাম’, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী’, ‘মানিকে লাল কাকড়া’ ও ‘গন্তব্য’। এর মধ্যে কেনো ছবি শেষ পর্যায়ে আছে, কোনোটির শুটিং শেষ হয়ে গেছে, কোনোটির আবার শুটিং শেষের দিকে।

করোনার কারণে দর্শক দীর্ঘদিন সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখতে পারছেন না। সেই দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

করোনার পর যখন হল খুলে দেওয়া হবে, তখন যেন সবাই আবার হলে যায়। সামাজিক দূরত্ব মেনেই যেন যায়। লক্ষ্য রাখতে হবে হল থেকে যাতে করোনা ছড়িয়ে না পড়ে। করোনার জন্য পুরো পৃথিবী থমকে গেছে; আমরাও থমকে আছি। তাই এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই। আমরাও আপনাদের জন্য যে কাজগুলো শুরু করেছিলাম তা শেষ করতে পারিনি। আশা করছি, খুব সহসাই শেষ করে ফেলব। আমরা অভিনয়ের মানুষ, অভিনয় ছাড়া কিছু জানি না। তাই এটা নিয়েই আবার আপনাদের মাঝে ফিরে আসব। সবাই যদি আমাদের সাপোর্ট করেন, তা হলে অবশ্যই আমরা সিনেমার সুদিন ফিরিয়ে আনতে পারব।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com