রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

মাইন্ড এইড ‘হাসপাতালই’ নয় : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০
  • ১২৫ বার

রাজধানীর আদাবরের ‘মাইন্ড এইড’ কোনো হাসপাতাল নয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতাল পরিচালনা করছিল বলেও গণমাধ্যমকে জানান তারা।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পরে আদাবরের মাইন্ড এইডে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল। সেখানকার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তারা জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটি আদৌ কোনো হাসপাতাল নয়। বরং ‍তারা সেখানে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে হাসপাতাল চালিয়ে আসছিল।

গতকাল সোমবার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যুর ঘটনার পর আদাবরের এ প্রতিষ্ঠানটির বিষয়টি সামনে আসে। ওই প্রতিষ্ঠানে মানসিক সমস্যার কারণে ভর্তি হতে গিয়েছিলেন তিনি। সকালে সেখানে নাস্তাও করেন। পরে টয়লেটে যেতে চাইলে তাকে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট রুমে মারধর করা হয়। এর চার মিনিটের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় মারধরের দৃশ্যটি।

আনিসুলের পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির পরপর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই হাসপাতাল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে ঢোকানো হয়। তাকে প্রতিষ্ঠানটির ছয়জন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। এরপর নীল পোশাক পরা আরও দুজন কর্মচারী তার পা চেপে ধরেন। এ সময় মাথার দিকে থাকা দুজন কর্মচারী হাতের কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একটি নীল কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুলের হাত পেছনে বাঁধা হয়। চার মিনিট পর আনিসুলকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই তার শরীর নিস্তেজ ছিল। একজন কর্মচারী তখন তার মুখে পানি ছিটান। তাতেও আনিসুল করিম নড়াচড়া করছিলেন না। তখন কর্মচারীরা কক্ষের মেঝে পরিষ্কার করেন। সাত মিনিট পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা একজন নারী কক্ষে প্রবেশ করেন। ১১ মিনিটের মাথায় কক্ষের দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ১৩ মিনিটের মাথায় তার বুকে পাম্প করেন সাদা অ্যাপ্রোন পরা নারী। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।

এ ঘটনায় আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন আনিসুল করিম শিপনের বাবা। ১৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন তিনি। পরে ওই প্রতিষ্ঠানের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ।

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয়ে আজ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ১০ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় (৩৫), কো-অর্ডিনেটার রোদোয়ান সাব্বির (২৩), কিচেন শেফ মো. মাসুদ (৩৭), ফার্মাসিস্ট মো. তানভীর হোসেন (১৮), ওয়ার্ড বয়- জোবায়ের হোসেন (১৯), ওয়ার্ড বয় তানিফ মোল্লা (২০), সজীব চৌধুরী (২০), অসীম চন্দ্র পাল (২৪), মো. লিটন আহাম্মদ (১৮) এবং মো. সাইফুল ইসলাম পলাশ (৩৫)।

৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আনিসুল সর্বশেষ বরিশাল মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com