বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৩:১০ অপরাহ্ন

ব্রিটেনে সংখ্যালঘু, কৃষ্ণাঙ্গদের দ্রুত টিকার দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৮ বার

জাতিগত অবস্থান ও বঞ্চনাও করোনায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরেই এনিয়ে জল্পনা চলছিল। এবার গবেষণাতেও উঠে এলো সেকথা। তারপরই ব্রিটেনজুড়ে জাতিগত সংখ্যালঘু ও কৃষ্ণাঙ্গদের দ্রুত করোনার ভ্যাকসিন দেয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। দাবি উঠেছে, এই সম্প্রদায়গুলোর ২০ লাখ মানুষকে টিকা দিতে হবে। এদের মধ্যে আট লাখ মানুষকে যুদ্ধকালীন তত্পরতায় টিকাকরণের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে কাজ করে রুনিমেড ট্রাস্ট। তারা এই মুহূর্তকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থার চিফ এগজিকিউটিভ ডাঃ হালিমা বেগমের কথায়, গত বছর মার্চ মাস থেকেই আমরা এটা আঁচ করতে পারছিলাম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকককেও এই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। সম্প্রদায় ও বঞ্চনাকেও অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে মান্যতা দিতে আর্জি জানিয়েছিলাম। সেইসঙ্গে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে তাঁকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও অনুরোধ করেছিলাম। একইসঙ্গে হালিমা বলেছেন, জাতিগত অবস্থান, সামাজিক বঞ্চনা এবং বডি মাস ইনডেক্স (উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত) — এই তিনটি বিষয়কে গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সকলকে একজোট করে বৃহত্ গোষ্ঠী তৈরি করে দ্রুত সুরক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার। তাহলে বিপদের মুখে থাকা বহু মানুষকে রক্ষা করা যাবে।

একই সুর শোনা গেছে ‘ব্রিটিশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন কাউন্সিল’-এর চেয়ারম্যান চাঁদ নাগপালের গলাতেও। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই ‘বেম’ এই বিষয় নিয়ে সরব। তারা বারবার জানিয়েছে, বঞ্চনার শিকার হওয়া জাতিগত সংখ্যালঘুর ক্ষেত্রে করোনায় মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি। গরিব এলাকাগুলিতে অন্যান্য গুরুতর রোগে মৃত্যুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু, ‘জয়েন্ট কমিটি অন ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন’ বা জেসিভিআই যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে এই গোষ্ঠীর সিংহভাগ মানুষই বাদ পড়েছেন। তাই প্রাণঘাতী করোনার হাত থেকে বাঁচতে অবিলম্বে তাদের টিকাকরণ কর্মসূচির আওয়ায় আনতে হবে।

করোনায় মৃত্যুর কারণ হিসেবে সবার ওপরে রয়েছে বয়স। এরপরেই রয়েছে ক্যান্সার ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো গুরুতর বিষয়গুলো। রিস্ক অ্যানালিসিস টুল বলছে, ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত ২২ লাখের বাইরে আরো ১৭ লক্ষ মানুষকে টিকাকরণের মধ্যে আনতে হবে। এদের বড় অংশই বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। বিভিন্ন পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখে জানা যাচ্ছে, কৃষ্ণাঙ্গ, জাতিগত সংখ্যালঘু ও এশিয়দের মধ্যে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। প্রাণ হারাচ্ছেন তাদের গরিব প্রতিবেশীরাও। এছাড়া, ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্তদের নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

করোনায় ঝুঁকির মাত্রা খতিয়ে দেখতে নতুন টুল ব্যবহার করা হচ্ছে। তার নাম ‘কিউকোভিড’। মাস কয়েক আগে অক্সফোর্ডের ‘ক্লিনিক্যাল এপিডেমিওলজি’ বিভাগের অধ্যাপক জুলিয়া হিপ্পিসলে-কক্সের নেতৃত্বাধীন টিম এটি তৈরি করেছে। কীভাবে এটি কাজ করে, তা গত অক্টোবরেই প্রকাশিত হয়েছিল। ব্রিটেনের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ জেনি হ্যারিসের কথায়, সবচেয়ে বিপদের মুখে থাকা সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে এই টুল স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষভাবে সাহায্য করবে।

সূত্র : বর্তমান

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com