শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

এই বিপুল অপচয় কেন?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১
  • ১৮ বার

দেশের মহানগরীগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে ১২টি সিটি করপোরেশনকে দেয়া হয় ২০টি রোড সুইপার ট্রাক। এতে ব্যয় হয়েছে ২৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার তত্ত¡াবধানে এগুলো কেনা হয়। কুড়িটি যন্ত্রের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রামকে দেয়া হয় তিনটি করে। নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটিকে দু’টি করে এবং দেশের বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনকে দেয়া হয় একটি করে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বাজেটে মন্ত্রীর অভিপ্রায় খাত থেকে ‘রোড সুইপার’ কেনার ব্যয় বহন করা হলো। কেনাও হয় সে মন্ত্রীর ইচ্ছায়। এসব যন্ত্র আমদানি করা হয় ইতালি থেকে। নিয়ম অনুযায়ী কেনার আগে কার্যকারিতা পরীক্ষার কথা। তবে করোনা মহামারীর কারণে তা সম্ভব হয়নি। মাস পাঁচেক আগে ঘটা করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয় রোড সুইপার ট্রাকগুলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই যন্ত্রের তেমন উপযোগিতা নেই। ফলে বেশির ভাগ সময় অকেজো পড়ে থাকছে এগুলো। একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
এমনিতেই দেশের সব নগরীর বায়ুদূষণ প্রায় সবসময় জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। বাস্তবতা হলোÑ বাতাসে অতিসূ² বস্তুকণার দূষণের দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় থাকা শহরগুলোর একটি। অথচ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে কেনা যন্ত্র কাজে লাগছে না। ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরীর অধিবাসীরা সড়কে ধুলার যন্ত্রণায় যখন অতিষ্ঠ, তখন রাস্তা পরিষ্কার করতে কেনা রোড সুইপার ট্রাক তেমন একটা ব্যবহার করতে না পারা উদ্বেগজনক। উল্টো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে যন্ত্রগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। এগুলো দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দিতে গেলে বাতাসে ধুলা আরো বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে জনগণের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উপযোগিতা না থাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দেয়া তিনটি রোড সুইপারের মধ্যে দু’টি নগর ভবন প্রাঙ্গণে গত জানুয়ারি থেকে ফেলে রাখা হয়েছে। ডিএসসিসি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যন্ত্রগুলো চালালে ধুলা বেশি ওড়ে। মানুষ বিরক্ত হয়। এ জন্য খুব একটা ব্যবহার করা হয় না। অন্য দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সড়ক পরিষ্কার করতে গিয়ে সড়কের চার পাশে ধুলা ছড়িয়ে পড়ায় এক চালক জানান, তিনি মারধরের শিকার হয়েছেন। বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর অভিজ্ঞতা মোটামুটি একই রকম। এ ছাড়া কারো কারো দক্ষ চালক সমস্যাও রয়েছে।
বিস্মরকর হলো, এই যন্ত্র ব্যবহারের সময় পরিষ্কারের বদলে বরং বাতাসে ছড়িয়ে দেয় ধুলা। রোড সুইপার চালিয়ে যাওয়ার পর ধুলা ফের রাস্তায়ই জমা হয়। ঝাড়ু দেয়ার আগে রোড সুইপারের সামনে থাকা নল দিয়ে পানি ছিটানোর কথা; কিন্তু পানি ছিটানো সম্ভব হয় না। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানি ছিটালে ধুলো পরিষ্কার হয় না, উল্টো কাদা তৈরি হয়। মাঝে মধ্যে যন্ত্রটি বন্ধও হয়ে যায়। ধুলাগুলো যন্ত্রের ভেতরে চেম্বারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও পুরোটা হয় না।
সব মিলিয়ে যে উদ্দেশ্যে রোড সুইপার কেনা হয়েছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। অথচ জনগণের করের বড় অঙ্কের টাকা ঠিকই খরচ হয়েছে। বাস্তবে এগুলো কেনার পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে; তা অপচয়। সরকারি কোষাগারের এই বিপুল অর্থ অপচয়ের দায় এখন রাষ্ট্রকেই বহন করতে হচ্ছে।
সাধারণত কোনো যন্ত্র কেনার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হয়, তা আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কতটুকু উপযোগী এবং এর কার্যকারিতা কেমন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রোড সুইপারের মাধ্যমে এ দেশের নগরীগুলোকে ধুলামুক্ত করে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। রোড সুইপার ট্রাক কেনায় সম্পৃক্তদের, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের কারণে জবাবদিহি করা প্রয়োজন। তা না হলে আগামীতেও দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা বাড়বে বৈ কমবে না। হলফ করে বলা যায়, রাষ্ট্রীয় কাজে জবাবদিহি না থাকলে ‘সরকারি মাল, দরিয়ামে ঢাল’ Ñ এই প্রবণতা মাত্রা ছাড়া পর্যায়ে পৌঁছাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com