বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:০০ অপরাহ্ন

আধুনিক শহরে রূপ নিচ্ছে কক্সবাজার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৯ বার

কক্সবাজারকে ঘিরে নানা স্বপ্ন দেখতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই স্বপ্নে রয়েছে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকমানে তৈরি করার পরিকল্পনা। তিনিও চেষ্টা করেছেন, ঝাউবন স্থাপন করেছেন। তার রেখে যাওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। সে পরিকল্পনারই অংশ কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রাসরণ। সময় পেলেই জাতির পিতা আমাদের নিয়ে ছুটে যেতেন কক্সবাজারে। কক্সবাজার নিয়ে আমাদের পরিবারের অনেক স্মৃতি। গতকাল রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে আলাদা পরিকল্পনা আছে সরকারের। সিঙ্গাপুর, ব্যাংককের আদলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কক্সবাজারটায় সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা। ইকোট্যুরিজমের কাজ চলমান, রেললাইন আসছে। আন্তার্জাতিক বিমানবন্দর হলে দিবারাত্রি ফ্লাইট চলবে। এসব দৃশ্যমান হলেই কক্সবাজার বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন শহর করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়ক। এটিকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। রেললাইনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে গেছে। এসব পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে কক্সবাজার। যেমনটা জাতির পিতা চেয়েছেন।

ভিডিও কনফারেন্সে কক্সবাজার থেকে যুক্ত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোখলেছুর রহমান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নয় হাজার

ফুট দীর্ঘ একটি রানওয়ে রয়েছে। এটি ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ ফুট থাকবে সমুদ্রের মধ্যে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের মহেশখালী চ্যানেলের দিকে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হচ্ছে এই রানওয়ে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর, ৭৪৭-৪০০ ও এয়ারবাসের মতো উড়োজাহাজ সহজেই ওঠানামা করতে পারবে। প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যার পুরোটাই অর্থায়ন করছে বেবিচক।

সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের উপকূলীয় শহরে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরগুলোর কাতারে নাম লিখিয়ে দেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ এবং এভিয়েশন সেক্টরে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে পর্যটননগরীর এই বিমানবন্দর।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের সমুদ্র সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যেসব সুবিধা মিলবে তার মধ্যে রয়েছে, কক্সবাজার থেকে পূর্ণ লোড সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা, সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের ফলে রাত্রিকালীন বিমান পরিচালনা এবং বিমানের যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে। এ ছাড়াও কক্সবাজার বিমানবন্দর হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক সুন্দর ও কার্যকর বিমানবন্দর।

অন্যদিকে কক্সবাজারসংলগ্ন মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার মতো দেশের বড় বড় এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফটও অবতরণ করতে পারবে কক্সবাজারে। দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে এবং সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার বিমানবন্দর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com