মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

বিলম্বের কারণ জানতে চায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮ বার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা সংক্রমণ পরীক্ষার মেশিন (আরটি-পিসিআর) স্থাপনে গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর এক সপ্তাহের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর পর সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও এখনো কোনো বিমানবন্দরেই আরটি-পিসিআর মেশিন বসেনি। তাই কেন

এ কার্যক্রম শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে তার কারণ জানতে চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে আরটি-পিসিআর টেস্ট মেশিন স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে করোনার র‌্যাপিড পিসিআর টেস্ট ল্যাব বসানোর কাজ কারা পাবে সে বিষয়ে মঙ্গলবারের (গতকাল) মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনের বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মুখ্য সচিব বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুত আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন জরুরি। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনে ৬ থেকে ৭টি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা ও তাদের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন সভায় জানান, কমপক্ষে ৫টি আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হলে এক সঙ্গে ৩০০টি কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা সম্ভব। নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে রিপোর্ট সরবরাহ পর্যন্ত কমপক্ষে চার ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। কিন্তু বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনের মতো জনবল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেই।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ল্যাব স্থাপনের জন্য একটি ফ্লোর লিজগ্রহীতাকে ছেড়ে দিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিজগ্রহীতাকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মনিরুছ সালেহীন বলেন, বিমানবন্দরে কোভিড-১৯ টেস্টের ব্যয়ভার যাত্রীরা বহন করবেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া সভায় জানান, একটি কোম্পানির পরিবর্তে একাধিক কোম্পানিকে আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে। ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কম খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় সক্ষম কোম্পানিকে বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

সভায় এ বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেমন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসরকারিভাবে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের ব্যবস্থা করবে। শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবারের মধ্যে কম খরচে দ্রুত পরীক্ষা করার সক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক কোম্পানি নির্বাচন করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্বাচিত কোম্পানির তালিকা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেবিচককে সরবরাহ করবে। এ ছাড়া বেবিচক কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপন করবে। বিমানবন্দরে বরাদ্দকৃত স্থানের ভাড়া পরিশোধ করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কোভিড-১৯ টেস্টের গুণগত মান তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের কোভিড-১৯ টেস্ট কার্যক্রম সমন্বয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বেবিচক প্রতিনিধিদের নিয়ে আরেকটি কমিটি গঠন করবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

এদিকে পিসিআর টেস্টের দাবিতে গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেছিলেন প্রবাসীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা মন্ত্রণালয় না ছাড়ার ঘোষণা দেন। একপর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে আশ্বস্ত করেন। এর পর আন্দোলনকারীদের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাত করেন মন্ত্রীর সঙ্গে। পরে মন্ত্রীর আশ্বাসে তারা অনশন কর্মসূচি বন্ধ করে মন্ত্রণালয় ছাড়েন।

বিমানবন্দরে কারা আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনে কাজ পাচ্ছে এ বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, ‘সক্ষমতার দিক থেকে সাতটি কোম্পানিকে আমলে নেওয়া হয়েছে। এই সাত কোম্পানির মধ্যে থেকে কাজ দেওয়া হবে। আজকে (মঙ্গলবার) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে যে কারা কাজ পাবে। একটি কোম্পানি পেতে পারে, আবার একাধিক কোম্পানিও কাজ পেতে পারে। তবে সেটি নির্ধারণ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নির্বাচনের ক্ষেত্রে কত দ্রুত পরীক্ষা করতে সক্ষম এবং খরচ কত কম হবে তার ওপর নির্ভর করবে কে কাজ পাবে।’

উড়োজাহাজে চড়ার কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ সনদের বাধ্যবাধকতার কারণে গত ১৩ মে থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না বাংলাদেশিরা। দেশে ছুটিতে এসে আটকে পড়া এই কর্মীরা কর্মস্থলে ফিরতে রাস্তায় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। সে জন্যই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা সংক্রমণ পরীক্ষার আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com