শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩০ অপরাহ্ন

ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় ‘উপযুক্ত নন’ বিচারক কামরুন্নাহার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ৯ বার

স্থগিতাদেশ থাকার পরও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেওয়া বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার কোনো ধরনের ফৌজদারি বিষয় পরিচালনার ‘উপযুক্ত নন’ বলে রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন, মামলার সকল নথি পাশ কাটিয়ে ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন কামরুন্নাহার, যা ‘অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত’ করে।

এর আগে গত ২২ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ওই রায় দেন। গতকাল বুধবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ছয় পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ আসামির সবাইকে খালাসের রায়ে ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহারের এখতিয়ারবহির্ভূত পর্যবেক্ষণ বিতর্কের জন্ম দেয়। মৌখিক ওই পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর পুলিশ যেন মামলা না নেয়। তবে লিখিত রায়ে সে বিষয়টি তিনি রাখেননি।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত ১৪ নভেম্বর কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতাসাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তাকে আর আদালতে না বসার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আদালত থেকে প্রত্যাহার করে তাকে পাঠানো হয়েছিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে।

তখন জানা যায়, স্থগিতাদেশ থাকার পরও হাতিরঝিল থানার ২০১৮ সালের এক ধর্ষণের মামলায় আসলাম শিকদার নামের এক আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন বিচারক কামরুন্নাহার। কোন এখতিয়ার বা ক্ষমতাবলে ওই আসামিকে তিনি জামিন দিয়েছিলেন, সে ব্যাখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে।

ওই মামলার রায়ে গত বছরের ১৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক সামছুন্নাহার আসামি আসলাম শিকদারকে খালাস দেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিলও করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এতদিন পর কামরুন্নাহারের বিষয়টি গত সপ্তাহে আপিল বিভাগে উঠলে ২২ নভেম্বর তিনি সর্বোচ্চ আদালতে সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তিনি বলেন, আসলাম শিকদারের জামিন যে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছে, তা তিনি জানতেন না।

কিন্তু জামিন শুনানির সময় নথিতে অন্য সব কাগজপত্রের সঙ্গে চেম্বার আদালতের ওই আদেশের অনুলিপিও ছিল এবং তার আগের বিচারক পাঁচবার আসলামের জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন- এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে কামরুন্নাহার বলেন, তিনি আগের নথি দেখেননি, যা তার ভুল হয়েছে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো নথি না দেখার বিষয়টি কামরুন্নাহারের ‘অসৎ উদ্দেশ্যের’ ইঙ্গিত করে।

সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, আসলাম শিকদারকে জামিন দেওয়ার মাধ্যমে মোছা. কামরুন্নাহার আপিল বিভাগের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য তিনি ‘উপযুক্ত নন’। সুতরাং, মোছা. কামরুন্নাহার বাংলাদেশের কোনো আদালতে কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলার বিচার করতে পারবেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com