বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

প্রকল্পে প্রকল্পে ‘সংঘর্ষ’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ২৫ বার

ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত হবে ‘আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে’। আবার বিমানবন্দর এলাকা থেকেই জয়দেবপুর পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট’ (বিআরটি) নামের আরেকটি প্রকল্প। এই দুই প্রকল্পের রুট আলাদা হবে আব্দুল্লাহপুর গিয়ে। অর্থাৎ বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত দুই প্রকল্পের রুট একেবারে গা-ঘেঁষা।

এর মধ্যে আবদুল্লাহপুর গিয়ে এক্সপ্রেসওয়েটি (উড়ালসড়ক) কীভাবে বিআরটি অতিক্রম করবে- তা নিয়ে বেধেছে মূল বিপত্তি। উড়ালসড়কের খুঁটি না সরালে বিআরটি প্রকল্পের গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। কিন্তু বিআরটি প্রকল্প তাদের সমতল লেনের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছে। এখন উড়াল সড়কের গাড়ি চলাচলের সুযোগ দিতে হলে লেনের একটা অংশ ভাঙতে হবে। তবে উড়াল সড়ক প্রকল্পের নকশায় দুটি স্প্যানের দূরত্ব ৩০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৩৫ মিটার করা হলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান। আর আশুলিয়া উড়ালসড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, উড়ালসড়কের দুটি খুঁটি (পিয়ার) নির্মাণের আগেই যদি বিআরটির ইউটার্ন র‌্যাম্প ও সার্ভিস রোডের কাজ শেষ হয়, তবে পরে তা ভাঙতে হবে। নইলে ইউটার্ন র‌্যাম্পের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের খুঁটি সাড়ে পাঁচ মিটার সরাতে হবে। ঢাকা-আশুলিয়ার এক্সপ্রেস প্রকল্পটি বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইনের পাশ দিয়ে যাবে। আবদুল্লাহপুরে বিআরটির ওপর দিয়ে যাবে তুরাগের দিকে। এর পর বেড়িবাঁধ হয়ে সাভারের ধউর ও আশুলিয়া হয়ে বাইপাইল যাবে।

এই উড়ালসড়ক প্রকল্পের পরিচালককে চিঠি দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন’ (সিএমসি)। সিএমসি প্রথমে চিঠি দিয়ে ১১৯ নম্বর খুঁটির জন্য বিআরটির র‌্যাম্প সাড়ে পাঁচ মিটার সরাতে বলে।

কিন্তু বিআরটি জানায়, তাদের নির্মাণধীন র‌্যাম্পের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্ভিস রোডের পরিকল্পনা করা করা হয়েছে। এ পর্যায়ে এসে র‌্যাম্প সরানো সম্ভব নয়। বড় গাড়ি চলাচলের জন্য বিআরটির ফ্লাইওভার থেকে কমপক্ষে পাঁচ দশমিক সাত মিটার উঁচুতে (ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে হবে।

এর পর আরেক চিঠিতে সিএমসি বলেছে, এক্সপ্রেসওয়ের ১১৮ এবং ১১৯ খুঁটি বিআরটির নির্মাণ এলাকায় পড়েছে। ১১৮ নম্বর খুঁটি বিআরটির ফ্লাইওভারের পূর্বপাশের সার্ভিস রোডের পাশে নির্মিত হবে। ১১৯ নম্বর খুঁটি বিআরটির ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশের ইউটার্ন র‌্যাম্পের (ইউ-১) যে নকশা রয়েছে, তার ঠিক মাঝ বরাবর নির্মাণ করতে হবে।

আবদুল্লাহপুরে এক্সপ্রেসওয়ে কীভাবে বিআরটিকে অতিক্রম করবে, তার নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। অবশ্য এর আগে গত জানুয়ারি বিআরটির সেতু বিভাগ অংশের প্রকল্প পরিচালক চিঠিতে জানিয়েছিলেন, ১১৮ নম্বর খুঁটি বিআরটির প্রকল্পের বাইরে পড়েছে। সেখানে সার্ভিস রোডের ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। বিআরটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১১৮ নম্বর খুঁটির পাইলিংয়ের কাজ শেষ করতে হবে। তাদের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। নকশা প্রণয়নের পর্যায়ে রয়েছে।

আশুলিয়া উড়ালসড়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আবদুল্লাহপুরে এক্সপ্রেসওয়ের কোনো র‌্যাম্প থাকবে না। বিআরটি প্রকল্প থেকে এক্সপ্রেসওয়ের ১১৯ নম্বর খুঁটি সাড়ে পাঁচ মিটার পশ্চিমে সরাতে বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী নকশা হবে। বিআরটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে ১১৮ ও ১১৯ নম্বর খুঁটির নিচের কাজ ও পাইল ক্যাপ নির্মাণ করা হবে। যাতে পরবর্তী সময়ে বিআরটির কোনো কিছু ভাঙতে না হয়।

এ নিয়ে বিআরটির সেতু বিভাগ অংশের প্রকল্প পরিচালক মহিরুল ইসলাম আমাদের সময়কে জানান, ‘এক্সপ্রেসওয়ের খুঁটি পড়েছিল অ্যাট গ্রেড লেনের মধ্য দিয়ে। তাদের ডিজাইনে সাড়ে ৫ মিটার সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের কাজ নির্মাণাধীন; তাদের কাজ শুরুই হয়নি। তাই তারা ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে। বিষয়টির নিরসন হয়েছে।’

জানা গেছে, ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আশুলিয়া উড়ালসড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দেবে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। গত অক্টোবরে পরীক্ষামূলক পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ বলা হলেও এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে না, তা প্রায় নিশ্চিত। ২০১৭ সালে নেওয়া প্রকল্পটি পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

এদিকে ২০১২ সালে নেওয়া হয় বিআরটি প্রকল্প। এটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। এ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে বাসের জন্য বিশেষায়িত লেন নির্মাণ করা হচ্ছে। ধীরগতির কাজের কারণে প্রকল্প ব্যয় দুই হাজার ৩৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকা হয়েছে। এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে। প্রকল্প ব্যয় চার হাজার ৫৩৬ কোটি করতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। নির্মাণকাজের কারণে ৫ বছর ধরে ওই এলাকায় তীব্র ভোগান্তি হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com