মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সাকিবের বরিশালকে হারিয়ে শিরোপা কুমিল্লার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩৭ বার

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বরিশালকে হারিয়ে এবারো শিরোপা ঘরে তুলল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। নারিন ঝড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দেওয়া ১৫২ রানের টার্গেটে নেমে ১৫০ রানেই থেমে যায় বরিশালের ইনিংস। আর তাতেই ১ রানেই জিতে বিপিএলে এ নিয়ে তৃতীয় শিরোপা জিতল কুমিল্লা। এর আগে ২০১৫ সালে প্রথম এবং ২০১৯ সালে দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল ফ্রাঞ্চাইজিটি।

শিরোপা জিততে শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। এমন সমীকরণের সামনে ইনিংসের ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দুই রান দেওয়ার সঙ্গে ডোয়াইন ব্রাভোর উইকেট নেন সুনীল নারিন। তাতে খানিকটা চাপে পড়ে ফরচুন বরিশাল। সেই চাপ আরও বাড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ে। মুস্তাফিজুর রহমানের ব্যাক অব হ্যান্ড ডেলিভারিতে এলবিডউব্লিউ হয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। সেই ওভারে ৬ রান দেন মুস্তাফিজ। তাতে ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে বরিশালের প্রয়োজন ছিল ১০ রান।

তখন পেসার শহিদুল ইসলামের ওপর আস্থা রাখেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। প্রথম বলে ডট দিলেও পরের বলে এক রান নিয়ে প্রান্ত বদল করেন তৌহিদ হৃদয়। তৃতীয় বলে মুজিব উর রহমানও এক রানের বেশি নিতে পারেননি। পরের বল ওয়াইড দেন শহিদুল। আর চতুর্থ বলে দুই রান নিয়ে বরিশালকে খেলায় রাখেন হৃদয়। ২ বলে যখন ৫ রান দরকার তখন হৃদয়ের ক্যাচ মিস করেন তানভীর ইসলাম। শেষ বলে হৃদয় এক রান নিলে ১ রানে হারতে হয় বরিশালকে। তাতে সাকিবের বরিশালকে হারিয়ে বিপিএলের এবারের আসরে শিরোপা জিতলো কুমিল্লা।

আগে ব্যাট করে কুমিল্লার সংগ্রহ ছিল ১৫১ রান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৩ বলে ৫৭ রান করেছিলেন সুনিল নারিন। বিপরীতে পুরো ২০ ওভার খেলে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানে থেমেছে বরিশালের ইনিংস। বল হাতেও ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে কুমিল্লার জয়ের নায়ক সুনিল নারিন।

১৫১ রানের পুঁজি নিয়ে শুরুতেই মোস্তাফিজকে আক্রমণে আনে কুমিল্লা। পরের ওভারে শহীদুলের দ্বিতীয় বলে মুনিমের উইকেট হারায় বরিশাল। ৭ বল খেলে খালি হাতেই সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। শুরুর উইকেট হারানোর ধাক্কা সামাল দেন সৈকত আলী। শহিদুলের টানা তিন বলে তিন চার মেরে শুরু করেন নিজের ইনিংস। মোস্তাফিজের ওভারে তিন চারে নেন ১৪ রান। মূলত তার ব্যাটেই পাওয়ার প্লে থেকে বরিশাল পায় ৫১ রান। পাওয়ার প্লের পরের ওভারে টানা দুই চারে ২৬ বলে ফিফটি করেন সৈকত।

সৈকত তাণ্ডব চালালেও ঘুমিয়ে ছিলেন গেইল। শেষ পর্যন্ত তাকে রেখেই দলীয় ৭৯ রানে তানভীরের বাঁহাতি স্পিনে সাজঘরে ফেরেন সৈকত। ফেরার আগে করেন ৩৪ বলে ৫৮ রান। ১১তম ওভারে এসে মঈন আলীকে ছক্কা মেরে নিজের প্রথম বাউন্ডারি পান গেইল। তার দ্বিতীয় ছক্কা আসে তানভীরের বলে। দলীয় ১০৭ রানে এলবির ফাঁদে ফেলে গেইলকে থামায় নারিন। ফেরার আগে ৩১ বলে ৩৩ রান করেন গেইল।

ইউনিভার্সের বিদায়ে ক্রিজে আসেন সাকিব। কিন্তু বরিশালের অধিনায়ককে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে দেননি তানভীর। বাজে এক শটে মোস্তাফিজের তালুবন্দি হয়ে ৭ বলে ৭ রান করে ফিরেন সাকিব। শেষ ১৯ বলে প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। নারিন ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই ফেরান ব্রাভোকে। এই ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। চাপে পড়ে যায় বরিশাল। পরের ওভারে মোস্তাফিজ এলবিডব্লিউ করে ফেরান শান্তকে। এই ওভারে মোস্তাফিজ দেন ৬ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। শহিদুলের করা শেষ ওভারে বরিশাল নেয় ৮ রান। ১ রানে জিতে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

এর আগে শুরুতে টস জিতে কুমিল্লার হয়ে ওপেন করতে নামেন লিটন দাস ও সুনীল নারিন। আগের ম্যাচে বিপিএলে সবচেয়ে দ্রুতগতির অর্ধশতক তুলে নেন নারাইন (১৩ বলে ৫০)। ফাইনালের মহারণেও আগুনে ব্যাটিং শুরু করেন নারিন। প্রথম ওভার শেষে কুমিল্লা বিনা উইকেটে ১২। ৫ বলে ১৭ রানে অপরাজিত নারিন। ২ ওভার শেষে কুমিল্লার ৩৬ রানের ৩৩ রানই নারিনের। কুমিল্লার ওপেনিং ঝড় থামাতে তৃতীয় ওভারে বল করতে আসেন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব। মাত্র ৪ রান দিয়ে লিটনকে বোল্ড করেন সাকিব।
এরপর সাকিবের বলে টানা দুই চার মেরে ওই ওভারের শেষ বলে ৩ রান নিয়ে ২১ বলে অর্ধশতক তুলে নেন নারিন। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার ১১তম ফিফটি। আগের ম্যাচের মত এই ম্যাচেও ঝড় উঠেছে নারিনের ব্যাটে। তবে নারিনকে বেশিক্ষণ তাণ্ডব চালাতে দেয়নি বরিশাল। ষষ্ট ওভারের দ্বিতীয় বলে রানার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শান্তর তালুবন্দি হয়ে ফেরেন নারিন। সাজঘরে ফেরার আগে ২৩ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ৫৭ রানে থামেন ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটার।

নারিনের বিদায়ের পর হঠাৎ যেন তালগোল পাকিয়ে ফেলে কুমিল্লা। দলীয় ৭৩ রানে ব্রাভোর দুর্দান্ত থ্রো’তে রান আউটে কাটা পড়েন মাহুমুদুল হাসান জয়। ৭ বলে ৮ রান করে ফিরেন মাহমুদুল। এরপর স্কোরকার্ডে ১০ রান যোগ হতেই ফেরেন কুমিল্লার প্রোটিয়া তারকা ফাফ ডু প্লেসি। নবম ওভারের প্রথম বলে মুজিবকে খেলতে গিয়ে তার ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ফাফ ডু প্লেসি। ৭ বলে করেন মাত্র ৪ রান।

শুরুতে ঝড় তুললেও একটা সময় গুটিয়ে যায় কুমিল্লা শিবির। নারিন ফেরার পর থেকেই জুটি খুঁজে বেড়াচ্ছে ভিক্টোরিয়ান্সরা। দলীয় ৯৪ রানে ব্রাভোর বলে উইকেট বিলিয়ে দেন কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। তার বিদায়ে বিপদে কুমিল্লাও। ১২ বলে ১২রান করে আউট হন কুমিল্লা দলপতি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা কুমিল্লার বিপদ আরো বাড়লো আরিফুলের বিদায়ে। ১১তম ওভারে আরিফুলকে স্পিনে বোকা বানিয়ে বোল্ড করেন মুজিব উর রহমান।

৬ উইকেট হারিয়ে কুমিল্লা যখন খাদের কিনারায় তখন ক্রিজে কুমিল্লার স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে আছে মঈন আলী। পেসার আবু হায়দারকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত কুমিল্লাকে সম্মানজনক স্কোর পাইয়ে দেন ইংলিশ এই অলরাউন্ডার। শেষ ওভারের প্রথম বলে দুর্ভাগ্যক্রমে রান আউটে কাটা পড়েন মঈন। সাজঘরে ফেরার আগে ৩২ বলে ৩৮ রান তোলেন। শেষ ওভারে দুর্দান্ত বল করেন শফিকুল ইসলাম। মঈনকে সঙ্গ দেওয়া রনিকে ফেরান ১৯ রানে, পরের বলে শহিদুলকে রানের খাতাই খুলতে দেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রানে থামে কুমিল্লা। ২৭ রানে ২ উইকেট নেন বরিশালের স্পিনার মুজিব উর রেহমান। ৩১ রানে ২ উইকেট শফিকুল ইসলামের। ১টি করে উইকেট সাকিব ও ব্রাভোর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com