শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১০:১৮ অপরাহ্ন

এখন কী করবে পশ্চিমা বিশ্ব

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ২৩ বার

পশ্চিমা বিশ্বের কড়া হুমকি থোড়াই কেয়ার করে গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা করেছে রুশ বাহিনী। গতকাল আগ্রাসনের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক মানুষ প্রতিমুহূর্তে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব?

রুশ হামলার আগে পশ্চিমের নেতৃবৃন্দ যে এত বড় বড় কথা বলেছেন এখন রুশ আগ্রাসন রুখতে তারা কী করছেন? তারা কি পারবেন পুতিনের পরবর্তী পদক্ষেপ থামাতে?

ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ বলেছেন, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হস্তক্ষেপ করেছে রাশিয়া। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, এই হামলা ইউরোপের ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তন করে দেবে। ইউরোপীয় কমিশনের নেতৃবৃন্দ বলছে, ইউরোপে আবারও যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছেন পুতিন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কী দেখছি। ইউক্রেনের জনগণের জন্য প্রার্থনা, নিষেধাজ্ঞা আর কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ…। প্রশ্ন হলো, পুতিনের পরবর্তী পদক্ষেপ রুখে দিতে পশ্চিমাদের এসব পদক্ষেপ কি যথেষ্ট? গোয়েন্দা তথ্য বলছে সেই সম্ভাবনা বেশ কম। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, আমরা ইউক্রেনের জনগণের সঙ্গে আছি। কিন্তু এই একাত্মতা এই মুহূর্তে ইউক্রেনের জন্য কতটা কাজে আসবে।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন ৩০ জাতির সামরিক জোট ন্যাটো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে যে, জোটের সদস্য না হওয়ায় ইউক্রেন রক্ষায় তারা কোনো সেনা পাঠাবে না। এর পরই রাশিয়াকে রুখতে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞাই একমাত্র ভরসা। এ ছাড়া কিছু দেশ হয়তো ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাতে পারে। পরিস্থিতি এমন যে- রাশিয়া একদিকে ইউক্রেনের একের পর এক শহরে হামলা চালাচ্ছে আর ওয়াশিংটন, লন্ডন, বার্লিন আর ব্রাসেলস যুগপৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপের হিসাব কষছে।

এসব নিষেধাজ্ঞা মূলত রুশ অর্থনীতিকে চাপে ফেলা, প্রযুক্তিকে কোণঠাসা এবং রুশ কর্মকর্তাদের ভ্রমণসংক্রান্ত। কিন্তু বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে যে আগ্রাসন চালিয়েছে পুতিন তার খরচ ধরে রেখেছেন ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এই খরচের অনেকটাই তিনি পুষিয়ে নেবেন তেল বিক্রি করে। কেননা হামলার শুরুর পরই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার করে তেলের দাম বেড়েছে। এ কারণে বলা হচ্ছে, ৫ বছর আগের তুলনায় রাশিয়াকে পশ্চিমাদের ওপর কম নির্ভরশীল করে তুলেছে। বরং জ্বালানিসহ অনেক কিছুতেই ইউরোপের অনেক দেশ রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া গত কয়েক বছরে পুতিনের নিজের ক্ষমতা আরও সংহত করেছেন। সেখানে তিনিই সর্বেসর্বা। এ কারণে রুশ কূটনীতিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরিস্থিতি কতটা বাগে আনা যাবে সেটা চিন্তার বিষয়।

লন্ডনভিত্তিক একজন কূটনীতিক চলতি সপ্তাহের রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক সম্পর্কে বলেছিলেন, পুতিনের অভ্যন্তরীণ বলয় সম্পর্কে আমরা আলোচনা করে থাকি। কিন্তু এখানে কোনো অভ্যন্তরীণ বলয় নেই। সেখানে শুধু পুুতিনই আছেন।

এমন পরিস্থিতিতে পুতিন যখন একার সিদ্ধান্তে একের পর এক আগ্রাসী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন তখন ইউক্রেন সত্যিকার অর্থেই ‘একা’ হয়ে পড়েছে। এ কারণেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল স্থানীয় সময় সকালে বলেছেন, আজ এই সকালে আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে একাই রক্ষা করছি, গতকালও তাই করেছি। বিশ্বের ক্ষমতাবান বাহিনী দূর থেকে শুধু দেখছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, রাশিয়া কি গতকালের নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা দিয়েছে? আমরা আমাদের আকাশে-ভূমিতে যে আগ্রাসন দেখছি তা রুখতে এই নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। যদিও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ভেদিম প্রেস্তাকো রুশ হামলার জবাব দিতে পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ন্যাটোকে সহায়তার আহ্বান জানান। এক চিঠিতে তিনি জানান, কিয়েভ আত্মসমর্পণ করবে না কিন্তু মস্কোকে রুখতে আমাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

গার্ডিয়ান ও বিবিসি অবলম্বনে

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com