মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

দেশি দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২
  • ২১ বার

সরকারি ক্রয়ে নতুন নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। দেশি দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে এককভাবে আন্তর্জাতিক দরদাতা নিয়োগ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এককভাবে কোনো বিদেশি সংস্থা সরকারি কোনো প্রকল্পে কাজ করতে পারবে না। এই কাজ করতে হলে তাকে অবশ্যই দেশি কোনো কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

শুধু তাই নয়, সম্ভব হলে এসব কাজ এককভাবে দেশি কোম্পানি দিয়ে করানো হবে। এ লক্ষ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮’-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে বিষয়টি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা তৈরি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। বর্তমানে এটি ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আইএমইডির প্রস্তাবনায়, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশীয় দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়াতে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হলেও যোগ্য ও দক্ষ দরদাতা নিয়োগ এবং এর  ক্রাইটেরিয়াগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি মানসম্মত কাজের বিষয়ে কোনো সুপারিশ রাখা হয়নি। আইএমইডির প্রস্তাবে ১১ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশীয় দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়াতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক আইএমইডি প্রাথমিকভাবে একটি প্রস্তাবনা প্রণয়ন করে। পরে এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশমালা প্রণয়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির ৮টি বৈঠকে নি¤েœাক্ত সুপারিশগুলো গৃহীত হয়।

আইএমইডির সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- দেশীয় সরবরাহকারী ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে পণ্য ও কার্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক দরপত্র পরিহার এবং একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ের দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগটি শুধু দেশীয় দরপত্রদাতাদের মধ্যে সীমিত রাখা; কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলে আন্তর্জাতিক দরপত্রদাতাকে বাধ্যতামূলকভাবে দেশীয় দরপত্রদাতাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা; কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে দেশীয় দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের ২০ শতাংশ মূল্যসীমা পর্যন্ত ক্রয়কাজ সহঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা; অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বানের সময় দাপ্তরিক ব্যয় প্রাক্কলন প্রকাশ করা। পাশাপাশি ৫ শতাংশ কমবেশির মতো সংকুচিত মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়া হলে আর্থিক প্রতিযোগিতার সুফল থেকে সরকারের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬’-এ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি এবং এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে কার্যক্রয়ের দরপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ৫ শতাংশ কমবেশির বিধান সংযোজন করা যেতে পারে।

৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে ‘এক ধাপ দুই খাম’ পদ্ধতি প্রয়োগের বিধান এবং এক্ষেত্রে দরপত্রের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নে স্কোরিং পদ্ধতি প্রয়োগ, কারিগরি প্রস্তাবে ৮০ শতাংশ ও আর্থিক প্রস্তাবে ২০ শতাংশ নম্বর রাখা। কারিগরি মূল্যায়নে পদ্ধতি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রস্তাব, গুণগত মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রে দেশীয় দরপত্রদাতা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা ইত্যাদি একাধিক নির্ণায়কসহ কাজের আয়ুষ্কালভিত্তিক নির্ণায়কগুলো অন্তর্ভুক্ত করা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের ‘সিপিটিইউ’ দরপত্র মূল্যায়নের সাধারণ নির্ণায়কগুলো নির্ধারণ করবে।

‘ফ্রন্ট লোডিং’ সংক্রান্ত ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮’-এর বিদ্যমান বিধি বাতিল; কোনো দরপত্র মূল্যায়নে প্রারম্ভিক আইটেমের উদ্ধৃত দর উল্লিখিত আইটেমগুলোর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের ১৫ শতাংশ বেশি হলে দরপত্রটি ‘ফ্রন্ট লোডেড’ হিসেবে গণ্য এবং সেটি বাতিল হিসেবে বিবেচনা করা।

উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রয়ের দরপত্র মূল্যায়নে সর্বনিম্ন দর সমান হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দরদাতা প্রতিষ্ঠানের ‘পাস্ট পারফরমেন্স ইভ্যালুয়েশন ম্যাট্রিক্স’-এর নম্বরগুলোর পুনর্বিন্যাস করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ থেকে ১৭৫ শতাংশ সমমূল্যের চুক্তির মূল্য বিবেচনা এবং এক্ষেত্রে ৩০০ নম্বরের (যথাক্রমে ১৪০, ১০০ ও ৬০) বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করে ২০০ নম্বরের ম্যাট্রিক্স নির্ধারণ করা। প্রস্তাবিত ম্যাট্রিক্সে বাস্তবায়িত কাজের সংখ্যা ও মূল্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা।

দরপত্র সক্ষমতার বর্তমান গুণকটি ১.৫০-এর পরিবর্তে ১.২৫ নির্ধারণ করা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অভ্যন্তরীণ দরপত্র আহ্বান এবং বিশেষ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা অপরিহার্য হলে সেক্ষেত্রে ‘অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র নীতিগত অনুমোদন এবং যৌথ উদ্যোগ হিসেবে দেশীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হবে।

নির্ধারিত সময় ও মান নিশ্চিত করে চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার/ সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে ‘পিপিআর ২০০৮’-এর ১২৭ ধারা মোতাবেক বারিতকরণসহ চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com