মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন

ডা. জাফরুল্লাহকে নিয়ে অস্বস্তিতে বিএনপি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০২২
  • ২৬ বার

বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে বেশ অস্বস্তির মধ্যে আছে দলটি। এ কারণে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়ছে। সদ্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনকে কেন্দ্র করে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে।

সার্চ কমিটিতে নাম দেওয়া এবং ইসি গঠনের পর ইতিবাচক মন্তব্য করাসহ জাফরুল্লাহর সার্বিক কর্মকা-ে ক্ষুব্ধ বিএনপি। সাম্প্রতিক সময়ে দলের কোনো অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ না জানানো এবং তিনি কোনো অনুষ্ঠানে থাকলে সেখানে নেতাকর্মীদের না যেতে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার পর জাফরুল্ল­াহকে পুরোপুরি বর্জন করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি থাকলে বিএনপি নেতারা অনুষ্ঠানে আসবে না বা আমাকে বর্জন করবে- সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। জনবিচ্ছিন্নতার কারণে বিএনপি তাদের ভুল বুঝতে পারছে না। অনুধাবন করতে পারছে না কে তাদের বন্ধু আর কে শত্রু।

কয়েক মাস আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে জাফরুল্ল­াহ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আমি বারবার বলেছি- তারেক, তুমি দুই বছর চুপচাপ বসে থাকো। পারলে বিলেতে লেখাপড়ায় যুক্ত হয়ে যাও, সেখানে বহুভাবে লেখাপড়া হয়।’ এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন সভায় উপস্থিত ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। ওই ঘটনার পর বগুড়া জেলা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ককে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ ছিল বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিএম সিরাজ ডা. জাফরুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রমাণ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তবে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে জাফরুল্ল­াহ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাকে এভাবে এড়িয়ে চলা উচিত হবে না।

জাফরুল্ল­াহকে বয়কটের সিদ্ধান্তের পর গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জেএসডি আয়োজিত জাতীয় পতাকা দিবসের অনুষ্ঠানে যাননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন। একই অনুষ্ঠানে জাফরুল্ল­াহ চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানোয় সেখানে যাননি বিএনপি মহাসচিব। দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা জানান, মহাসচিব একজন সজ্জন মানুষ। তাকে ডা. জাফরুল্লাহ এর আগে চাকর-বাকর বললেও মনে কষ্ট পেলেও তিনি হেসে উড়িয়ে দেন। কিন্তু ডা. জাফরুল্লাহ তো বিএনপিকে ছাড়ছেন না। তিনি আসলে কী চান- এটিই বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন সময় দলের পক্ষ থেকে বিএনপি নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য না দিতে বলা হলেও তিনি তা অব্যাহত রেখেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দিলে তার উপস্থিতিতে দলের নেতাদের পক্ষে সেই অনুষ্ঠানে যাওয়া খুব কঠিন।

যদিও বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপি মহাসচিব অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও তা-ই জানানো হয়।

জেএসডির অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব না যাওয়ায় অনুষ্ঠানস্থলে নানা আলোচনা হয়। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না তার বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজকের (বুধবার) অনুষ্ঠানের ইনভাইটেশন কার্ডে জাফরুল্ল­াহ চৌধুরী ও মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম লেখা। এ দুটো জিনিস একসঙ্গে যাবে নাকি, বহুদিন ধরে দেখছি যায় না। তিনি আরও বলেন, আমি জানি না ফখরুল সাহেব কেন আসেননি। উনি অসুস্থতার কথা বলছেন, হয়তো এজন্যই আসেননি। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মান্না বলেন, আওয়ামী লীগ চলে গেল, ভোট হলে আপনারা ক্ষমতায় আসবেন। লড়াই যখন করছি, সেই লড়াইয়ে যেন জনগণের অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এজন্য জাফরুল্ল­াহর পরামর্শ নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপি যুক্ত হয়নি। কিন্তু ডা. জাফরুল্লাহ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, যা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বিএনপি। তার প্রস্তাবিত নামের মধ্যে নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নামও ছিল। সার্চ কমিটিতে তার দেওয়া নাম নিয়ে সে সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপি ডা. জাফরুল্ল­াহর মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনের জন্য তাদের পছন্দের নাম দিয়েছে। এরপর হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর জাফরুল্ল­াহ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, হাবিবুল আউয়াল অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান লোক। তার ওপর যদি সরকার অনাকাক্সিক্ষত চাপ সৃষ্টি না করে, তিনি ভালো কাজ করবেন। সবাইকে তার সহযোগিতা করা উচিত। তার এমন সার্টিফিকেট বিএনপির জন্য একটি বড় আঘাত বলে মনে করছে দলটি।

ডা. জাফরুল্ল­াহর এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ২৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই ডা. জাফরুল্ল­াহ চৌধুরী বিএনপির কেউ নন। তিনি যা বলেছেন তা তার নিজস্ব বক্তব্য। নির্বাচন বিষয়ে তিনি বিএনপির পক্ষে কথা বলার কেউ নন। গত মঙ্গলবার বরিশালের এক সমাবেশেও সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপির অনুষ্ঠানে এসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ দল সম্পর্কে যা খুশি তা বলবেন- তা হতে পারে না। ডা. জাফরুল্লাহর কথাবার্তা ও কর্মকা- নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তিনি আসলে কাদের হয়ে কাজ করছেন এ প্রশ্নও উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com