মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস : একটি আদর্শ ডায়ালাইসিস পদ্ধতি

ডা: মো: তৌহিদ হোসাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ মার্চ, ২০২২
  • ৪৩ বার

কিডনি হলো একটি রক্ত ছাঁকনির ন্যাচারাল শোধনাগার যেখানে পর্যায়ক্রমে শরীরের সব রক্ত প্রবাহিত হয় এবং প্রস্রাব তৈরি করার মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়া হয়।

আমাদের দেশে মোটামোটি চারটির যেকোনো একটি প্রক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে বিকল হওয়া কিডনি রোগীর চিকিৎসা করা হয়। এই চিকিৎসাগুলোর মধ্যে আছে – কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট, হাসপাতাল-ভিত্তিক হিমোডায়ালাইসিস, হোম-ভিত্তিক পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস এবং রেনাল ট্রান্সপ্লান্টেশন। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম এবং মোটামোটি স্থায়ী চিকিৎসা হলো ট্রান্সপ্লান্টেশন।

ডায়ালাইসিস হলো – রক্ত পরিশোধনের বিকল্প রক্ত শোধন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে রক্ত থেকে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন-ঘটিত বর্জ্য পদার্থ যেমন – ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়া হয়। বর্জ্য পদার্থ বের করার ন্যাচারাল ছাঁকনি বা কিডনি দুটি যখন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায় তখনই বেঁচে থাকার তাগিদে এই বিকল্প রক্ত পরিশোধন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানো হয়। বিকল্প রক্ত পরিশোধন প্রক্রিয়া দুই প্রকার – হিমোডায়ালাইসিস ও পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস।

হিমোডায়ালাইসিসের ব্যয়বহুল পূর্বপ্রস্তুতি

হিমোডায়ালাইসিস করার আগে একজন ডায়ালাইসিস রোগীকে প্রস্তুতিমূলকভাবে প্রত্যেকের বাম হাতে ছোট্ট একটি অপারেশন করে আর্টারিওভেনাস ফিসচুলা (এভি ফিসচুলা) করিয়ে নিতে হয়। কিন্তু ফিসচুলা করার সাথে সাথেই ওই ফিসচুলা দিয়ে হিমোডায়ালাইসিস করা যায় না। এর মাধ্যমে হিমোডায়ালাইসিস করতে ফিসচুলা ম্যাচিউরড হওয়ার জন্য অপারেশন করার পর অন্তত ছয় সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশের সিকেডি রোগীরা অতটা সচেতন না থাকার কারণে অনেক সময়ই এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় যখন ইমার্জেন্সি হিমোডায়ালাইসিসের দরকার হয়ে পড়ে। কিন্তু আগে থেকেই হাতের ফিসচুলা না থাকার কারণে রোগীকে ফিমোরাল বা জগুলার ভেইনে স্পেশাল ক্যাথেটার ঢুকিয়ে ইমার্জেন্সি হিমোডায়ালাইসিস করিয়ে নিতে হয়, যা খুব স্বল্পস্থায়ী এবং রোগীর প্রয়োজন হয়ে পড়ে ১০-১২ হাজার টাকার বাড়তি খরচ। এই ইমার্জেন্সি ক্যাথেটার দিয়ে মাত্র মাস খানেক হিমোডায়ালাইসিস চালিয়ে নেয়া যায়। তারপর নতুন আরেকটি ক্যাথেটার ঢুকিয়ে ডায়ালাইসিস চালিয়ে নিতে হয়। এভাবে বারবার ফিমুরাল বা জগুলার ক্যাথেটার দিয়ে করতে গেলে অনেক বেশি খরচ এবং ইনফেকশন ঝুঁকিসহ অন্যান্য সমস্যাও হতে পারে।

আগে থেকেই বাম হাতে একটি আর্টারিওভেনাস ফিসচুলা (এভি ফিসচুলা) করার দেড়-দুই মাসের মাথায় ওই তৈরি ফিসচুলা দিয়ে হিমোডায়ালাইসিস করা যায়। অথচ রোগীরা যখন নেফ্রোলজিস্টের কাছে আসেন এবং সিরাম ক্রিয়েটিনিন লেভেল মোটামোটিভাবে চার-পাঁচের মধ্যে চলে আসে তখনই চিকিৎসক তাকে ফিসচুলা করিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশের রোগীদের অনেকের মধ্যেই অযথা এমন একটি ডায়ালাইসিস ভীতি কাজ করে যে, তারা ডায়ালাইসিস না করে কত দিন থাকা যায় সে জন্য অপেক্ষা করে। এক পর্যায়ে যখন অবস্থা হয়ে যায় মরণাপন্ন, তখন হয় চিকিসকের শরণাপন্ন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। হাতে ফিসচুলা করে ছয় সপ্তাহ অপেক্ষা করার মতো সময় আর থাকে না। বাস্তবিক কারণেই রোগীকে ইমার্জেন্সি ডায়ালাইসিসের নিমিত্তে ফিমোরাল বা জগুলার ক্যাথেটার করিয়ে নিতে হয় যা খুব স্বল্পস্থায়ী এবং রোগীর অতিরিক্ত খরচ হয়ে যায় যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।

হিমোডায়ালাইসিস করতে যে ডায়ালাইসিস মেশিন লাগে তার মিনিমাম দাম ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা যা হাসপাতালে আরো অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সিস্টেম যুক্ত করে চালু রাখতে হয়। এ ছাড়াও লাগে ডায়ালাইসিস ফ্লুইডসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই যা বিদেশ থেকে আনতে হয়।

হিমোডায়ালাসিস নির্ভর এ ধরনের রোগীদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ মাসে গড়ে খরচ ৪০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে যায় যা বাংলাদেশের অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। কিন্তু চোখের সামনে কেবলমাত্র ডায়ালাইসিস করতে না পারার কারণে প্রিয়জনদের অকাল মৃত্যু প্রত্যক্ষ করা কারো পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়।

তাই স্থায়ীভাবে বিকল হওয়া রোগীর চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে এক পর্যায়ে অনেক ধনী রোগী গরিব হয়ে যায়। আর গরিব রোগী চিকিৎসা খরচ মেটাতে নিজের বা পৈতৃক ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি, সাজ-সরঞ্জাম যা আছে সব বিক্রি করে কোনোমতো শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। একা খরচ মেটাতে না পেরে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে কোনো রকমে ডায়ালাইসিস চালিয়ে যেতে সচেষ্ট হয়। একপর্যায়ে ধারদেনার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় অনেক মা তার কোলের কলিজার টুকরা সন্তান বিক্রি করে (আমি নিজেই এর সাক্ষী) স্বামীর চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করার চেষ্টা করে। এই টাকাও যখন শেষ হয়ে যায় তখন অকাল মৃত্যুর প্রহর গণনা করা ছাড়া আর উপায় থাকে না। ক্রনিক কিডনি ডিজিজের রোগী নিজেও মরে সাথে তার পরিবারেরও অর্থনৈতিক ও সামাজিক মৃত্যু ঘটে।

কিভাবে করা হয় হিমোডায়ালাইসিস (এইচডি)

এ পদ্ধতিতে একটি আর্টিফিসিয়াল কিডনি বা ডায়ালাইজার শরীরের বাইরে ডায়ালাইসিস মেশিনে ফিট করে এর মধ্যে রক্ত চালিত করে ছাঁকনির মতো বর্জ্য পদার্থ আলাদা করে বের করে নিয়ে আসা হয়।
অন্য কথায়, হেমোডায়ালাইসিসের সময়, আপনার রক্ত আপনার শরীর থেকে টিউবের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস মেশিনে ফিট করা একটি ডায়ালাইজার নামক ফিল্টার বা আর্টিফিসিয়াল কিডনির মধ্য দিয়ে যায়, যা কিছু বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল অপসারণ করে আপনার রক্ত পরিষ্কার করে। অন্য দিকে আমাদের শরীরের প্লাজমা ফ্লুইডের মতো করে তৈরি করা একটি বিশুদ্ধ তরল পানীয় যাকে ডায়ালাইসিস ফ্লুইড বলে এবং যা বিশুদ্ধ পানি, ইলেকট্রোলাইট এবং বাইকার্বনেট-সোডিয়াম লবণের দ্রবণ – এই ডায়ালাইজারে ঢুকে। ডায়ালাইসিস ফ্লুইডের ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো রোগীর রক্ত থেকে টক্সিন টেনে আনা।

রোগীর বাহুতে একটি ভিন্ন সুঁচের মাধ্যমে ফিল্টার করা পরিশোধিত রক্ত মেশিন আবার শরীরে ফেরত দেয়।

ডিফিউশন, অসমোসিস ও আলট্রাফিল্ট্রেশন – এই তিন নীতিতে আপনার রক্ত পরিশোধিত হয়।
সপ্তাহে দুই-তিন বার প্রতিবারে চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় নিয়ে হিমোডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (পিডি) আসলে কি?

দেশে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ স্টেজ-৫ রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস আবার দু’ভাবে হয়। একটি হলো হিমোডায়ালাইসিস, আরেকটি হলো পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস। পেরিটোনিয়াল মেমব্রেনকে কাজে লাগিয়ে বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে আনার পদ্ধতিই হলো পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস। এটি খুব সহজ একটি পদ্ধতি। এখানে ফিল্টার করে বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে আনতে কোনো ডায়ালাইসিস মেশিন কিংবা ডায়ালাইজার (আর্টিফিসিয়াল কিডনি) এসব কিছুই লাগে না। লাগে শুধু এক বিশেষ ধরনের ফ্লুইড যা পেটের মধ্যে প্রবেশ করে ছয় থেকে আট ঘণ্টা রাখার পর ফেলে দেয়া হয়। ন্যাচারাল পেরিটোনিয়াল মেমব্রেনই এখানে ন্যাচারাল কিডনি বা আর্টফিসিয়াল কিডনির কাজটি করে থাকে।

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের রকমভেদ

এই পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস আবার দুই রকম – কন্টিনিউয়াস এম্বুলেটরি পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসি (সিএপিডি) এবং অটোমেটেড পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (এপিডি)। এই দুই রকমের ডায়ালাইসিস ঘরে বসেই করা যায় বিধায় এ দুটিকে হোম ডায়ালাইসিসও বলে। কিন্তু দুটি ডায়ালাইসিসেই বর্জ্য পদার্থ ও অপ্রয়োজনীয় পানি অপসারণে পেরিটোনিয়াল মেমব্রেনকে কাজে লাগানো হলেও সুবিধা ভিন্ন ভিন্ন।

রক্ত পরিশোধনের জন্য পেরিটোনিয়াল ক্যাভিটি নামক তলপেটের জায়গা ব্যবহার করে। পেটের ভেতর ছোট্ট একটি ক্যাথেটার ঢুকিয়ে দেয়া হয় যার মধ্য দিয়ে দুই লিটার সিএপিডি ফ্লুইড ১০ মিনিট সময়ের মধ্যে পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে ছয় থেকে আট ঘণ্টা রেখে দেয়া হয়। রোগী এ সময় ফ্লুইড পেটে রেখেই সব ধরনের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারে। ছয়-আট ঘণ্টা পর আবার ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনে আগে পেটের ভেতর রাখা ফ্লুইড ২০ মিনিটের মধ্যে বের করে ফেলা হয়। এরপর রোগী যখন চাইবে তখন আবার ১০ মিনিটের মধ্যে দুই লিটার সিএপিডি ফ্লুইড পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে ডায়ালাইসিস চালু করে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে শরীরের ভেতরে থাকা বর্জ্য পদার্থ পেরিটোনিয়াল মেমব্রেন ছিদ্রপথে বাইরে বের হয়ে আসে।

কন্টিনিউয়াস এম্বুলেটরি পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (সিএপিডি) হলো হস্তচালিত। অটোমেটেড পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (এপিডি) যেটা একটি মেশিনের সাহায্যে করা হয় এবং যেখানে মেশিনের সাথে পেটে লাগানো ক্যাথেটারের কানেকশন দিয়ে রোগী ঘুমিয়ে থাকে। সারা রাত ছয়-আট ঘণ্টা অটোমেটিক ডায়ালাইসিস হতে থাকে। ঘুম থেকে উঠে মেশিন থেকে নিজকে বিযুক্ত করে নিজস্ব কাজে বাইরে বের হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ রোগী সিএপিডি বেশি পছন্দ করে। কারণ সিএপিডি সহজ এবং অপেক্ষাকৃত কম খরচের একটি পদ্ধতি, দিনে দুই থেকে তিনবার করতে হয় এবং চাইলে যেকোনো জায়গায় উপযুক্ত পরিবেশে ডায়ালাইসিস করে নিতে পারে। কিন্তু অটোমেটেড পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস নিজের শোবার ঘরেই করতে হয়।

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের হরেক রকম সুবিধা

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো – বাড়িতে বসেই ডায়ালাইসিস করা যায়। সপ্তাহে দু-তিনবার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের সুবিধামতো সময়ে ডায়ালাইসিস করা যায়। রক্ত বাড়ানোর জন্য হিমোডায়ালাইসিস রোগীদের চেয়ে পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস রোগীদের কম পরিমাণে ইরাইথ্রোপয়েটিন ইনজেকশন লাগে। কোনো সুঁচ ফোটানোর দরকার হয় না। এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি বা হেপাটাইটিস-সি তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই। হাসপাতাল থেকে পাওয়া কোনো সংক্রমণ ঝুঁকি নেই। একই হিমোডায়ালাইসিস মেশিনে অনেক রোগীর ডায়ালাইসিস করায় ডায়ালাইসিস করতে এসে বরং উল্টো হেপাটাইটিস-বি অথবা হেপাটাইটিস-সি বা এইচআইভি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু পিডি (পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস) সিস্টেমে এ ধরনের কোনো ঝুঁকিই থাকে না। অনেক হার্ট ও ডায়াবেটিস রোগী, বেশি বয়স্ক ও শিশুদের জন্য সিএপিডি বেশি উপযোগী। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ট্রান্সপ্লান্ট করতে চান তাদের জন্যও পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস উত্তম।

হিমোডায়ালাইসিস রোগীদের খাবারের কঠিন শর্ত মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে যে দিনগুলোতে হিমোডায়ালাইসিস হয় না। কিন্তু পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসে খাবারের এত কঠিন শর্ত মানার দরকার হয় না।

যারা বাসা থেকে বাইরে বের হয়ে ডায়ালাইসিস করতে আগ্রহী নন কিংবা যারা এমন রিমোট এরিয়াতে বসবাস করেন যে, তাদের কাছাকাছি কোনো হিমোডায়ালাইসিস সেন্টার নেই তাদের জন্য সিএপিডির বিকল্প নেই।

শুধু ফ্লুইড প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারলে বা ফ্লুইড সাথে নিয়ে যেতে পারলে এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে রোগী যেখানে ইচ্ছা সেখানে ভ্রমণও করতে পারে।

পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের ফ্লুইডের দামে সরকার ভর্তুকি দিলে হিমোডায়ালাইসিসের চেয়ে অনেক কম খরচ হবে। ফলে এর জনপ্রিয়তাও বেড়ে যাবে। বর্তমানেও সব মিলিয়ে হিমোডায়ালাইসিসে খরচ বেশি। তবে হিমোডায়ালাইসিস করতে হলে রোগীকে সপ্তাহে দু-তিন দিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস করিয়ে নিতে হয়। নিজ বাড়িতে বা বাসায় বসে সম্ভব নয়।

হিমোডায়ালাইসিস (এইচডি) পদ্ধতিতে বর্জ্য তরল পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয় হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ ব্যবহার করে আর পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস (পিডি) পদ্ধতিতে তরল বর্জ্য অপসারণ করে অসমোটিক এবং অনকোটিক চাপ ব্যবহার করে। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যারিয়ার মেমব্রেনটি সেমিপারমিয়েবল বা অর্ধভেদ্য। এইচডিতে ছাঁকনির জন্য যে সেমিপারমিয়াবল মেমব্রেন ব্যবহৃত হয় তা মানবসৃষ্ট সিনথেটিক এবং পিডি এর মেমব্রেনটি জৈবিক বা ন্যাচারাল পেরিটোনিয়াল মেমব্রেন।

এইচডি খানিকটা শক্তিশালী এবং তাৎক্ষণিক কন্ট্রোলের জন্য ভালো। কিন্তু কন্টিনিউয়াস ও সাস্টেইনেবল কন্ট্রোলের জন্য পিডি উত্তম। রেনাল ফাংকশন প্রিজারভেশন পিডিতে অনেক বেশি অর্থাৎ এখানে বেশি সময় ধরে রেসিডুয়াল কিডনি ফাংকশন বজায় থাকে। ডায়ালাইসিসের শুরুতে পিডি সিস্টেমের সার্ভাইবাল রেট এইচডির দেড়-দুই বছরের চেয়ে বেশি থাকে কিন্তু শেষের দিকে সমান সমান হয়ে যায়। তার পরও পিডি রোগীর সংখা এইচডি রোগীর চেয়ে কম। এর কারণ হলো সচেতনেতা ও ট্রেইন্ড ব্যক্তিত্ব এবং ফ্লুইডের দাম তুলনামূলক বেশি।

হিমোডায়ালাইসিস নিয়ে আমরা যত কথাই বলি এটি কিন্তু নরমাল কিডনি ফাংকশনের মাত্র ৫-১০ শতাংশ রিপ্লেস করে। ট্রাইমেথোপ্রিম-সাফামেথক্সাজল অ্যান্টিবায়োটিক এইচ-২ বøকার এক সাথে ক্রিয়েটিনি লেভেল কমিয়ে দেয়। উত্তর আমেরিকাসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই পিডিতে খরচ কম।

পিডি বা এইচডির মধ্যে আপনি কোন পদ্ধতি বেছে নেবেন তা নির্ভর করে নিম্নলিখিত ফ্যাক্টরগুলোর ওপর

সাধারণভাবে বলা যায়, পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস বেশি সুবিধাজনক। তার পরও বিশেষ বিশেষ অবস্থায় কখনো পিডি ভালো আবার কখনো এইচডি ভালো।

প্রথমত, আপনার স্বাস্থ্যগত অবস্থা। আপনি হার্ট, ডায়াবেটিস রোগী হলে, বয়স অনেক কম এবং অনেক বেশি হলে পিডির বিকল্প নেই। আবার আপনার পেটে কোনো স্কার থাকলে এবং অনেক বেশি স্থূলকায় হলে এইচডির বিকল্প নেই।

দ্বিতীয়ত, আপনার কিডনির ফাংকশনাল কন্ডিশন। কিডনির ফাংকশন খুব খারাপ হলে দ্রæত উন্নতির জন্য হিমোডায়ালাইসিসই সাময়িক ভালো।

তৃতীয়ত, আপনার বাসার হাজিনিক কন্ডিশন। চতুর্থত, আপনার বাসা থেকে হিমোডায়ালাইসিস সেন্টারের দূরত্ব।

পঞ্চমত, আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা, চাকরি-ব্যবসায়, লাইফ স্টাইল ও ব্যক্তিগত পছন্দ।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজী, শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com