রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

বাজেটে নজর থাকবে ভোটার আকৃষ্টে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৪ বার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকার আর দুটি বাজেট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাজেট উপস্থাপন এবং বাস্তবায়ন করতে পারবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট উপস্থাপন করলেও বাস্তবায়নে পাবে অর্ধেক সময়। এমন প্রেক্ষাপটে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটই হবে সরকারে শেষ বাজেট। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের অর্থ বরাদ্দের খাত সাজানো হচ্ছে। যেসব খাতে সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সরাসরি ভোটার তুষ্টির বিষয় সম্পৃক্ত আগামী বাজেটে সেসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেমন বরাদ্দ গত অর্থবছরের তুলনায় বাড়ানোর ঘোষণা আসছে তেমনি সুবিধাভোগীর আওতাও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। বাজেটে আরও কোন কোন খাতে নজর দিলে ভোটারদের আকৃষ্ট করা যাবে সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে তা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও নতুন রূপরেখা থাকছে বাজেটে।

টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকার কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না। ভোটারদের তুষ্ট রাখতে বাজেটে নানা খাতে দেওয়া ভর্তুকিতেও বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশোধিত বাজেটে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাজেটে আর ১১ লাখ উপকারভোগীকে বয়স্কভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১০০ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নতুন ১১ লাখসহ মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৮ লাখ। এতে সরকারের ব্যয় বাড়বে ৫০০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে ৫৭ লাখ উপকারভোগী বয়স্কভাতা পাচ্ছেন। চলতি অর্থবছরে বাজেটে বয়স্কভাতার জন্য বরাদ্দ রয়েছে তিন হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে তা বেড়ে দাঁড়াবে তিন হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের ১১২ উপজেলায় বয়স্কভাতা দেওয়া হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে দরিদ্রপ্রবণ আরও ১৫০ উপজেলার বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীকে ভাতার আওতায় আনা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ ১৫০ উপজেলার সঙ্গে আরও ১০০ উপজেলা যুক্ত হচ্ছে। ফলে দেশের ৩৬২ উপজেলার বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আসছেন।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ শুরু করেছে অর্থ বিভাগ ও এনবিআর। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা, বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক প্রাক বাজেট আলোচনাও করছে এনবিআর।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসছে বাজেটের বিভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়ও ঠিক করছে সরকার। চলমান মেগা প্রকল্প হিসেবে মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেলসহ চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলোর কাজ নির্বাচনের আগেই শেষ করতে চায় সরকার। এজন্য আসছে বাজেট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ বিভাগ ও এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরোটা সময় কেটেছে করোনা মহামারীতে। এ সময় দেশের সার্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এর পর ২০২১-২২ অর্থবছরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট ঘোষণা করা হয়। বিপর্যস্ত অর্থনীতি অনেকটা চাপ সামলে ঘুরেও দাঁড়ায়। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বাভাবিক গতি ফেরার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় অমিক্রনের আঘাত। এই অমিক্রনের ধাক্কায় আরেক দফা অর্থনীতিসহ মানুষের জীবন যাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। যে কারণে আগামী বাজেটে করোনার কারণে যেসব খাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সেসব খাতে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।

এ দিকে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি বাড়ছে। ভর্তুকির শীর্ষে এলএনজি ও কৃষি খাত। মূল বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ আছে ৪০ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি বাড়ানো হচ্ছে ১২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

গ্যাসের সরবরাহ গতিশীল রাখতে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। তাই এ খাতে ভর্তুকি বাড়ানো হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত বাজেটে বাড়ানো ভর্তুকির প্রায় অর্থেক এলএনজি আমদানিতে বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। এর পরেই আছে বিদ্যুৎ ও কৃষি খাত। এর মধ্যে বিদ্যুতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাড়ছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, করোনাপরবর্তী পরিস্থিতিতে চাহিদা বেড়ে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য বৃদ্ধি এবং সর্বশেষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ২৮ হাজার কোটি এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ৩২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি দাবি করেছে। এ অবস্থায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভর্তুকি বাড়াতে হচ্ছে।

এলএনজি, গ্যাস, তৈল বীজ, সুদ ও টিসিবি খাতে মোট মূল ভর্তুকি বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এসব খাতে ভর্তুকি বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৯ হাজার কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ভর্তুকি বেড়ে দাঁড়াবে ১২ হাজার কোটি টাকা। কৃষি খাতে মূল ভর্তুকি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ভর্তুকি বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী আমাদের সময়কে বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনাপরবর্তী যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়া সামনে নির্বাচন রয়েছে সেদিকেও সরকারের নজর থাকবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com