বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৬ অপরাহ্ন

ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে ১৫ উপায়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১১৯ বার

ঠাণ্ডা লাগলে গলায় খুসখুস ভাব, নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়া, মাথা ভার হয়ে থাকা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেবেই। সাধারণ সর্দি-কাশিতে এক সপ্তাহ পুরো অস্বস্তিতে থাকতে হয়। ওষুধপত্রে তেমন একটা কাজ হয় না। কারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করার মতো কার্যকরী ওষুধ খুব একটা নেই। ঠাণ্ডা কিংবা সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। বিদেশী বিশেষজ্ঞরা এসব উপায় খুঁজে বের করেছেন। বর্তমান লেখাটিতে সেসব উপায়ের কথাই বিধৃত হলো। লিখেছেন ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল


কাশি এবং সর্দিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকুন
কাশি কিংবা সর্দি থেকে জীবাণুগুলো বাতাসে ভর করে ছোটে। যদি তার একটি আপনার চোখে কিংবা নাকে এসে পড়ে তাহলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আপনি আক্রান্ত হবেন কাশি কিংবা সর্দিতে। তথ্যটি দিয়েছেন মিসিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি কলেজ অব হিউম্যান মেডিসিনের শিশু ও মানব উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক ডা: ভিনিস মুরে। সুতরাং কাশি এবং সর্দি থেকে রেহাই পেতে কী করবেন আপনি? স্রেফ আক্রান্ত ব্যক্তির দিকে পিঠ ফিরিয়ে থাকুন।


বারবার আপনার হাত দুটো ধুয়ে নিন
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা ছড়ায় পরোক্ষ শারীরিক সংস্পর্শে। অর্থাৎ একজন অসুস্থ ব্যক্তির ঠাণ্ডার জীবাণু তার নাক থেকে হাতে স্থানান্তরিত হয়। সে যখন কোনো বস্তু স্পর্শ করে তখন হাত থেকে জীবাণু সেই বস্তুতে লেগে যায়। ঠাণ্ডার জীবাণু জড়বস্তুতে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। সুস্থ ব্যক্তি যখন সেই বস্তু স্পর্শ করে এবং তারপর নাক কিংবা চোখ ঘষে তখন স্বভাবতই জীবাণু সেখানে ঢুকে সংক্রমণ ঘটায়। এ জন্য ঠাণ্ডা যাতে আপনার নাগাল না পায় সে জন্য বারবার হাত ধোবেন। বক্তব্যটি ওহিয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা: জোশেফ এফ প্লাউফ-এর।


বদ্ধ জায়গায় সতর্ক থাকুন
অফিস ঘরগুলোতে বায়ু সঞ্চালন দুর্বল থাকে বলে সেখান থেকে ঠাণ্ডার ভাইরাসগুলো মিলিয়ে যেতে পারে না। অল্প আর্দ্রতায় শ্লেষ্মাঝিল্লি শুকিয়ে যায়, স্বাভাবিকভাবে সেখানে ভাইরাস এসে জুড়ে বসে। তাই অফিস ঘরে কিংবা বদ্ধ স্থানে ঠাণ্ডার ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হলো লবণ-পানির নেসাল ¯েপ্র ব্যবহার করা। তথ্যটি জানিয়েছেন ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের কমিউনিটি ও ফ্যামিলি মেডিসিন বিভাগের ডা: মার্গারেট গ্রাডিসন।


বেশি করে তরল পান করুন
ডা: মার্গারেট গ্রাডিসন বলেন, আপনি যদি বেশি করে তরল পান করেন তাহলে শরীর থেকে জীবাণু দূরীভূত হবে। পাশাপাশি আপনার শরীরে জীবাণু আক্রান্ত হওয়ার জন্য যে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল, তাও পূরণ হবে। এ সময় দৈনিক কমপক্ষে আট গ্লাস পানি, ফলের রস কিংবা অন্যান্য ক্যাফিনমুক্ত তরল খাওয়া উচিত।


নাক ও চোখ বেশি ঘষবেন না
এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ প্রতি এক ঘণ্টায় তার নাক ও চোখ অন্তত তিনবার স্পর্শ করে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যদি আপনার এ রকম করতেই হয়, তাহলে দয়া করে আঙুলের মাথা দিয়ে চোখ ও নাক ঘষবেন না। হাতের মুঠোর গিঁট ব্যবহার করুন। কারণ রোগজীবাণু সচরাচর আঙুলের মাথাতেই লেগে থাকে বেশি।


বিছানা ছেড়ে ব্যায়াম করুন
সপ্তাহে তিনবার মুক্ত বাতাসে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা ব্যায়াম যেমনÑ হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা নাচা আপনার শ্বাসতন্ত্রের উপরি ভাগের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করেÑ বলেছেন হার্টফোর্ড হাসপাতালের ফিজিওলজিস্ট নিয়াল ময়না। এর থেকে বেশি ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। গবেষকরা দেখেছেন, দৈনিক এক ঘণ্টার বেশি ব্যায়াম করলে সত্যিকার অর্থে আপনার ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।


আপনার রান্নাঘরের সামগ্রী জীবাণুমুক্ত রাখুন
রান্নাঘরে ঠাণ্ডা সবচেয়ে বেশি ধরে। সবচেয়ে বড় শত্রু হলো স্পঞ্জ ও ডিশর্যাগ। এগুলো উষ্ণ এবং ভেজা থাকে বলে এখানে ঠাণ্ডার জীবাণু বংশবৃদ্ধি করে। এই জীবাণুকে দূর করার উৎকৃষ্ট উপায় হলোÑ সপ্তাহে দু-তিনবার ডিশ ওয়াশার দিয়ে এগুলো পরিষ্কার করা। পরিবারের কারো ঠাণ্ডা লাগলে সে যেন রান্নাঘরের এসব সামগ্রী স্পর্শ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি রেফ্রিজারেটর, দরজার হাতল এসবও ছোঁয়া যাবে না।


ভিটামিন ই এবং সি খান
এখন বিশ্বাস করা হয় যে, ভিটামিন ই দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু চর্বি এবং তেলজাতীয় খাবারে এটা বেশি থাকে বলে যারা স্বল্প চর্বিযুক্ত খাবারে অভ্যস্ত, তারা খাবার থেকে ভিটামিন ই খুব একটা বেশি পান না। তাই প্রত্যেক দিন ১০০-২০০ আইইউ সমৃদ্ধ ভিটামিন ই ট্যাবলেট খেতে হবে। পরামর্শটি দিয়েছেন আমেরিকান হেলথ ফাউন্ডেশনের ডা: জন এইচ ওয়াইজবারগার। তবে ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের কথাও বলেছেন।
ভিটামিন সি ঠাণ্ডা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটা ঠাণ্ডার উপসর্গ কিছুটা কমায়।


অ্যালকোহল পরিহার করুন
অনেকেই ভাবতে পারেন, অ্যালকোহল পান করলে ঠাণ্ডার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। কিন্তু সত্যিকার অর্থে অ্যালকোহল শারীরিক অন্য অসুবিধার সৃষ্টি করে। ফলে তা পরিহার করাই ভালো।

১০
কাশিকে প্রশমিত করুন
কাশি হলে সেটাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করুন। এর জন্য দুই ধরনের সিরাপ রয়েছে। একটি কফ সাপ্রেস্যান্ট, অন্যটি কফ এক্সপেকটোর্যান্ট। কাশিকে (কফ) দমিয়ে রাখার জন্য আপনাকে খেতে হবে কফ সাপ্রেস্যান্ট আর কাশি বের করে দেয়ার জন্য কফ এক্সপেকটোর্যান্ট।

১১
প্রত্যেক রাতে চমৎকার ঘুম দিন
চমৎকার একটি ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর ক্ষমতা বাড়ায় বলছেন ভি এ সানদিয়েগো হেলথ কেয়ার সিস্টেমের গবেষকরা। এক গবেষণায় তারা দেখেছেন, রাতে আট ঘণ্টা চমৎকার ঘুম দিলে জীবাণু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তাই ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার একটি উপায় হলো রাতের ঘুম সুন্দরভাবে নিশ্চিত করা।

১২
সঠিক ডি কনজেসট্যান্ট ব্যবহার করুন
নাক বুজে গেলে ডি কনজেসট্যান্ট ড্রপ এবং ¯েপ্র মুখে খাবার ওষুধের চেয়ে দ্রুত আপনার উপসর্গমুক্ত করবে। মুখে খাবার ওষুধ অনেক সময় হৃৎস্পন্দনকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপে কিংবা হৃদরোগের রোগীরা তা খেতে পারেন না। কিন্তু ডি কনজেসট্যান্ট কাজ করে চমৎকার। তবে পরপর তিন দিনের বেশি এটা ব্যবহার করা উচিত নয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। নেসাল ¯েপ্র হিসেবে আইপ্রাট্রোপিয়ামও ভালো।

১৩
গলা ব্যথার আরামদায়ক ব্যবস্থা খুঁজুন
গলা ব্যথায় হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে (এক কাপ পানিতে এক চা-চামচ লবণ) গড়গড়া করলে বিস্ময় রকমের কাজ হয়, বলছেন মিসিগান স্টেটের ডা: মুরে। তার মতে, লজেন্স কিংবা শক্ত ক্যান্ডি চুষলে গলা ব্যথা উপশম হয় এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে চা এবং মধু ভালো কাজ করে। মেডিকেটেড লজেন্সে থাকে মেনথল যা গলার অনুভূতি নাশ করে, প্রকৃতপক্ষে গলা ব্যথার কোনো উপকার করে না। তাই গলা ব্যথার জন্য লবণ-পানির গড়গড়াই উৎকৃষ্ট।

১৪
প্রাকৃতিক প্রতিষেধক ব্যবহার করুন
তুলসীপাতা ট্যাবলেট কিংবা ক্যাপসুলের চেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতির এই প্রতিষেধককে ঠাণ্ডার সাথে লড়াই করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করুন। এর যদিও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি, তবে কারো কারো ক্ষেত্রে অ্যালার্জি হতে পারে। যদি অ্যালার্জি না হয় তাহলে তুলসীর রস খান। ঠাণ্ডা আপনাকে ছেড়ে যাবে।

১৫
স্বল্প চর্বিযুক্ত মুরগির স্যুপ খান
যেকোনো গরম তরল উপসর্গ নিরসনে সাহায্য করে। তবে মুরগির স্যুপ ঠাণ্ডায় বিশেষভাবে স্বাচ্ছন্দ্যকর প্রতিক্রিয়া ফেলে, বলেছেন ডিউক ইউনিভার্সিটির ভাং গ্রাডিসন। এই স্যুপে থাকে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ। ঠাণ্ডার জীবাণুর বিরুদ্ধে এগুলো দারুণ কাজ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com