শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

মাথাব্যথা হলে যা করবেন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২
  • ৮৭ বার

কখনো কখনো মাথাব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। কখনো কখনো এ ব্যথা চলতে থাকে দিনের পর দিন। তখন কিন্তু বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার অবকাশ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ মাথাব্যথা দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো প্রাইমারি হেডেক। মাইগ্রেন, টেনশন টাইপ হেডেক, ক্লাস্টার হেডেক ইত্যাদি এ পর্যায়ে পড়ে। সেকেন্ডারি হেডেক হচ্ছে সাইনোসাইটিস, মাসটয়ডাইটিস, গ্লুুকোমা, স্ট্রোক, মাথায় আঘাত পাওয়া, মস্তিষ্কের টিউমার ইত্যাদি কারণে ব্যথা।

চিকিৎসা ও প্রতিকার : মাথাব্যথার ধরন বা কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। এ জন্য প্রথমে প্রয়োজন রোগ নির্ণয় করা।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তির উপায় : প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সেটা হতে হবে পরিমিত। অতিরিক্ত বা কম আলোয় কাজ না করা। কড়া রোদ বা তীব্র ঠাণ্ডা পরিহার করতে হবে। উচ্চশব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ না থাকা। বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে না থাকা। মাইগ্রেন শুরু হয়ে গেলে, বেশি বেশি পানি পান করা (বিশেষ করে বমি হয়ে থাকলে), বিশ্রাম করা, ঠাণ্ডা কাপড় মাথায় জড়িয়ে রাখা উচিত।
মাইগ্রেন প্রতিরোধী খাবার : ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি মাইগ্রেন প্রতিরোধক। বিভিন্ন ফল, বিশেষ করে খেজুর ও ডুমুর ব্যথা উপশম করে। সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি নিয়মিত খেলে উপকার হয়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি মাইগ্রেন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তিল, আটা ও বিটে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। আদার টুকরো বা রস দিনে দুবার জিঞ্জার পাউডার পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।

এড়িয়ে চলবেন যেসব খাবার : চা, কফি ও কোমল পানীয়, চকলেট, আইসক্রিম, দই, ডেইরি প্রোডাক্ট (দুধ, মাখন), টমেটো ও সাইট্রাস জাতীয় ফল খাবেন না। গমজাতীয় খাবার, যেমন রুটি, পাস্তা, ব্রেড ইত্যাদি। আপেল, কলা ও চিনাবাদাম।

যা খেয়াল রাখবেন : ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন খাবারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় একটা ডায়েরি রাখা, যাতে নোট করে রাখতে পারেন কোন কোন খাবার ও কোন কোন পারিপার্শ্বিক ঘটনায় ব্যথা বাড়ছে বা কমছে। এক সপ্তাহ নোট করলে আপনি নিজেই নিজের সমাধান পেয়ে যাবেন।

সাইনোসাইটিসে মাথাব্যথা : যাদের ঘন ঘন সর্দি-কাশি হয়, তাদের সাইনোসাইটিস থেকে এ ধরনের মাথাব্যথা হয়। তখন গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। নাক পরিষ্কার করতে হবে খুব ভালোভাবে। ঘরের চিকিৎসায় কাজ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ খেতে হতে পারে। যাদের ধুলাবালিতে অ্যালার্জি আছে, তারা ধুলা থেকে দূরে থাকবেন। যখনই কেউ সর্দি-সমস্যায় আক্রান্ত হন, নাক সঠিকভাবে পরিষ্কার করবেন। সাইনোসাইটিসের ব্যথার সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের তেমন সম্পর্ক নেই। আলো বা শব্দের কারণে এ ব্যথা বাড়ার কোনো কারণ নেই।

চক্ষুজনিত মাথাব্যথা : চোখের কারণে মাথাব্যথা সাধারণত চোখে, কপালের দুদিকে বা মাথার পেছনে হয়। এ ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

হরমোনজনিত মাথাব্যথা : মেয়েদের ঋতুচক্রের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খেলেও ব্যথা হয়।

পরামর্শ : মাথাব্যথা দূর করতে বেশি বেশি পানি পান করুন।  খাবার খান সময়মতো। কারণ সঠিক সময় পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার যারা খেয়ে থাকেন, তাদের অযথা মাথাব্যথা হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। পর্যাপ্ত ঘুমাবেন। কাজের ফাঁকে চোখ বন্ধ করে কিছু সময় বিশ্রাম করুন। মাথাব্যথা হলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করলে আরাম পাবেন। আর হাসুন। হালকা মাথাব্যথা উপশমে হাসি বেশ উপকারী। শ্বাস নিন প্রাণভরে। মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে হলে খোলা কোনো জায়গা থেকে হেঁটে আসতে পারেন।

লেখক : অধ্যাপক; ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগ, এনআইএনএস

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com