শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

শীতকালে ত্বকের যত্ন নিতে এসব কাজ করবেন : ডা. এস. এম.

রাসেল ফারুক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৪ বার

তীব্র শীতে গ্রামগঞ্জে মানুষ প্রায় কাবু হয়ে পড়েছে। শীতকালে এমনিতেই বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে বায়ুম-ল ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়। তাতে ত্বক, ঠোঁট ও পায়ের তালু ফেটে যায়। মানবদেহের ৫৫ শতাংশই পানি। ত্বক নিজেই ধারণ করে ১০ শতাংশ। ত্বক থেকে পানি বেরিয়ে গেলে ত্বক দুর্বল ও অসহায় হয়ে পড়ে। ত্বকের যেসব গ্রন্থি থেকে তেল আর পানি বের হয়, তা আর আগের মতো ঘর্ম বা তেল কোনোটাই তৈরি করতে পারে না। এতে ত্বক আরও শুকিয়ে যায়। আমাদের ত্বকে থাকে ঘর্মগ্রন্থি, থাকে তেলগ্রন্থি। আর এখান থেকে অনবরত তেল আর ঘাম বের হয়, যা দেহের ওপর তেল ও পানির মিশ্রণ তৈরি করে; দেহ শীতল করে রাখে এবং ত্বক শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে, ত্বকের ফাটা ভাব প্রতিরোধ করে। মাথায় খুশকি হলে ভালো মানের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে কিটোকোনাজল জাতীয় শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

নখ ও ঠোঁটের যত্ন : শীতকালে কমবেশি সবার ঠোঁট ফাটে। অবশ্য তা তৈলাক্ত প্রলেপ ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ভ্যাসলিন, লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করে ঠোঁট ভালো রাখা যায়। তবে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজানো উচিত নয়। এতে ঠোঁট ফাটা আরও বেড়ে যায়। নখেরও সমান যত্ন নিতে হবে। শীতকালে ফাঙ্গাস দেখা দিতে পারে। ভিটামিন মিনারেলের অভাবে অনেক সময় নখ ফেটে যায়। নখ সাদা হয়ে যায়।

পায়ের যত্নে নিন : শীতকালে কারও কারও পা ফাটে। এক্রোফ্লেভিন দ্রবণে পা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পা পানি থেকে তুলে শুকিয়ে ভ্যাসলিন মাখুন। গ্লিসারিন ও পানির দ্রবণ পায়ে মাখিয়ে ফাটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পা ফাটা কম হলে অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল ব্যবহার করুন। উপকার পাবেন।

ইকথায়োসিস : ইকথায়োসিস বিভিন্ন ধরনের হয়। এ রোগের মধ্যে ইকথায়োসিস ভ্যালগারিস বেশি হয়। এটি জন্মগত রোগ। শিশুকালেই রোগটি বোঝা যায়। আক্রান্ত হলে হাত-পায়ের ত্বক ফাটা ফাটা এবং ছোট ছোট গুঁড়া মরা চামড়া বা আঁইশ পায়ের সামনের অংশে বা হাতের চামড়ায় ফুটে ওঠে। এক্ষেত্রে হাত-পায়ের ভাঁজযুক্ত স্থানে থাকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। শীত এলে প্রতিবছর রোগটি বাড়ে। আক্রান্তের হাতের রেখা খুব স্পষ্ট ও মোটা হয়, যা সাধারণ লোকের দেখা যায় না। একই সঙ্গে তাদের থাকে অ্যালার্জি। এ ধরনের রোগীর কারও কারও নাক দিয়ে প্রায়ই পানি পড়ে। পারিবারিক ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, তাদের পরিবারে অ্যালার্জিক সমস্যা ছিল বা এখনো আছে। এ রোগ কখনো ভালো হয় না। তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শীতকালে তৈলাক্ত পদার্থ মাখলে ত্বক ভালো থাকে এবং ফাটা ভাব থাকে না। এক্ষেত্রে আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড মাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। গ্লিসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে মাখলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

অ্যালার্জিমুক্ত থাকুন : হাঁপানির সঙ্গে অ্যালার্জির গভীর সংযোগ রয়েছে। ফুলের পরাগ, দূষিত বাতাস, ধোঁয়া, কাঁচা রঙের গন্ধ, চুনকাম, ঘরের ধুলা, পুরনো ফাইলের ধুলা দেহে অ্যালার্জিক বিক্রিয়া করে হাঁপানির সৃষ্টি করে। তাই এগুলোর সংস্পর্শ ত্যাগ করতে হবে। ছত্রাকও দেহে অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। পনির ছত্রাক মিশিয়ে তৈরি হয়। কোনো কোনো পাউরুটি এবং কেক তৈরি করতেও ঈস্ট জাতীয় ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। আলু, পেঁয়াজও ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়। এ ছত্রাকও অ্যালার্জি তথা হাঁপানি সৃষ্টির অন্যতম কারণ। ঘরের ধুলা হাঁপানিজনিত অ্যালার্জির অন্যতম কারণ। ঘরের ধুলায় মাইট থাকে। প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যালার্জি সৃষ্টির জন্য এ মাইট দায়ী। খাদ্যেও অ্যালার্জির আশঙ্কা থাকে। গম, ডিম ও মাছে অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। পোকামাকড়ের কামড় থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। ওষুধও হতে পারে অ্যালার্জির কারণ। তবে এসব থেকে রক্ষা পেতে প্রচুর মিনারেল জাতীয় খাবার খেতে হবে।

লেখক : চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

সিনিয়র কনসালট্যান্ট, বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতাল, রামপুরা, ডিআইটি রোড, ঢাকা

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 WeeklyBangladeshNY.Net
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com